সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে ১১ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্য দিয়ে দেশের পুঁজিবাজার কয়েক বছর ধরেই এক ধরনের ‘স্থবির স্রোতে’ আটকে আছে। মুলত ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও ব্যতিক্রম শুধু পুঁজিবাজার। গত ১৮ মাসে পুঁজিবাজারের বৃদ্ধি তো দূরের কথা, উল্টো প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন। ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিললেও পুঁজিবাজার চলছে সেই পুরানো উল্টো পথে।
ফলে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ মাস পুঁজিবাজারের কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। তবে গত সপ্তাহজুড়ে টানা তিন কার্যদিবস সূচকের ঊর্ধ্বমুখী থাকলে শেষ দুই কার্যদিবস সূচকের কিছুটা দরপতন দেখা দিয়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কিছুটা বেড়েছে।
এতে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন ৬ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা বেড়েছে। সেই সঙ্গে মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ। তবে সপ্তাহজুড়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ১১ হাজার ৭১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৬ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা বা দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ২ হাজার ৮৭৯ কোটি ৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ১ হাজার ৯০০ কোটি ৬০ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ৯৭৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বেড়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৯ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ২৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৯৬২ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৮ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৩০৯ টির, কমেছে ৪১ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২.৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২৬০ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ৩.১৫ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৮৭১ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ২.৪০ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৮২৯ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ২.০৫ শতাংশ বেড়ে ৮৬৯ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ১.৮৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩৪৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৩৯১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৯৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৭টির, দর কমেছে ৭২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির শেয়ার ও ইউনিট দর।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলীর মতে, পুঁজিবাজার ধীরে ধীওে স্থিতিশীলতার আভাস দিচ্ছে। আশা করা যায় নির্বাচনের পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ নির্বাচিত সরকারের সময় বিনিয়োগকারীরা আস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগমুখী হবে।
তেমনি বিএসইসির চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলে নতুন চেয়ারম্যানের প্রতি আস্থা বাড়বে বিনিয়োগকারীদের। ফলে বিনিয়োগ স্বভাবতই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এমন একটি সরকার চান, যাদের মেয়াদ আছে, নীতিগত ধারাবাহিকতা আছে এবং যাদের সময় বিনিয়োগ নিরাপদ।

