টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে ভর করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে পুঁজিবাজার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে তেজিভাব লক্ষ করা গেছে। তেমনি বেড়েছে সূচকও।
ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে। গত সপ্তাহে পুজায় ২কার্যদিবস বন্ধ ছিলো। ফলে তিন কার্যদিবসের মধ্যে দুই কার্যদিবস কিছুটা সুচকের উত্থান হয়েছে। তবে সপ্তাহের শুরুতে সূচকের উত্থানে পুঁজিবাজার নিয়ে আশার আলো দেখতে শুরু করছেন বিনিয়োগকারীরা।
এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে ডিএসই ৫৪০ পয়েন্ট সূচকের কারেকশন হয়েছে। ফলে বড় কারেকশনের পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছে। আশা করা যায় খুব দ্রুত পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার পথে হাঁটবে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তা কেটে যাচ্ছে, যে কারণে পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটা এখন অনেকটাই নিশ্চিত। দিন যতই যাচ্ছে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাচ্ছে। সব শ্রেণিপেশার মানুষ এখন বিশ্বাস করছেন নির্বাচন হবেই।
তাছাড়া নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় সক্রিয় হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও বড় বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘ মন্দার কারণে বাজারে এখন অনেক কোম্পানির শেয়ার দাম তলানিতে। যে কারণে বড় বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। এতে বাজারে গতিও বাড়ছে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিলে পুঁজিবাজারের গতি আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৪৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৭৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯২ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৫ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৩ টির, দর কমেছে ১৪৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৫ টির। ডিএসইতে ৬১৯ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৭৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯৪ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১০৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬৮টির এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

