পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা, ৯ কার্যদিবসে ৪৫৪ পয়েন্ট সূচক উধাও
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিললেও পুঁজিবাজার হাঁটছে উল্টো পথে। ফলে কিছুতেই থামছে না দরপতন, বরং ক্রমেই পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি আরও নাজুক হচ্ছে। যেখানে সরকার সহ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে। সেখানে টানা দরপতনের কারণ কী এ প্রশ্ন এখন বিনিয়োগকারীদের মুখে মুখে। এছাড়া পুঁজিবাজারে দিনের পর দিন ঢালাও দরপতনে বাড়তে শুরু করেছে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা। ফলে ঢালাও দরপতনের সঙ্গে লেনদেনের গতিও কমতে শুরু করেছে।
গত চার কার্যদিবস ধরে টানা দরপতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এর মধ্যে শেষ ৩ কার্যদিবসে প্রতিদিন ৭৬ শতাংশের বেশি কোম্পানির দরপতন হয়েছে। এমন পতনে লেনদেন কমে তলানিতে নেমে এসেছে। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই টানা পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও কমেছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে টাকার অঙ্কে গত আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। তেমনি ১৪০০ কোটি টাকার লেনদেন এখন ৫ শত কোটি ঘরে চলে আসছে। এর ফলে ডিএসইর সূচক দেড় মাস আগের অবস্থানে চলে আসছে।
তেমনি সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গত ৯ কার্যদিবসে ৪৫৪ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। ফলে ১২ কার্যদিবসের মধ্যে ৯ কার্যদিবস দরপতন হলেও তিন কার্যদিবস কিছুটা সূচকের উত্থান রয়েছে। এদিকে পুঁজিবাজারে টানা উত্থানের পর টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী মতে, পুঁজিবাজারে যে ভাবে সূচকের টানা উত্থান হয়েছে ঠিক সেই ভাবে টানা দরপতন হচ্ছে। এটা কোন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয়। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী তুললেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি। পুঁজিবাজারে কারসাজি চক্র সক্রিয় থাকায় বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আচরন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা সাধারন বিনিয়োগকারীদের মতো ডে ট্রেডারের ভুমিকা পালন করছেন বলে তিনি জানান।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুঁজিবাজারে যে ভাবে উত্থান হয়েছে সেভাবে পতন হচ্ছে। এটা কোন স্থিতিশীল বাজার নয়। এছাড়া এনবিআরের চিঠি ঘিরে হঠাৎ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। ফলে এ ধরনের উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করতে পারে। এর ফলে অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে সরে যাওয়ার চিন্তা করছেন। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে হলে এনবিআরের উচিত হবে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা। তেমনি বিনিয়োগকারীরা যেন বাজারবিমুখ না হয়ে পড়ে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৩৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৭১ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪ টির, দর কমেছে ৩০৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০ টির। ডিএসইতে ৫৪৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৩৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫১ টির এবং ১৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

