শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে হঠাৎ সূচকের টানা পতনে কিছুটা আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা। মুলত পতনের বাজারে দুর্বল বা নিম্নমানের কোম্পানির শেয়ারের টানা উল্লম্ফনে পুঁজিবাজারকে আবার অস্থির করে তুলেছে।

তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দিনের মতো ফলাফল প্রকাশের পর ঢালাও দরপতন হলেও, এই দরপতনের পেছনে ডাকসু নির্বাচনের কোনো প্রভাব নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় এখন মূল্য সংশোধন হচ্ছে। এটা স্বাভাবিক দরপতন। এমন উত্থান-পতনের মধ্যদিয়েই পুঁজিবাজার এগিয়ে যাবে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মূল্যসূচকের বড় পতনে সব সূচক ১ শতাংশের বেশি কমেছে। আগের দিন সব সূচক প্রায় দুই শতাংশ কমেছিল। আজ লেনদেন টানা ৯ কার্যদিবস পর হাজার কোটির নিচে নেমেছে। বিশেষ করে মাত্র দুই কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৬৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর আগে গত সোমবার লেনদেন শেষে তা ছিল ৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এদিন বাজারে ৫ হাজার ১০৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার মূলধন কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী বলেন, পুঁজিবাজারে সূচকের ওঠানামা বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু লেনদেনের পরিমাণ প্রমাণ করে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট রয়েছে। সংশোধনের সময় অনেকে ভালো শেয়ার ক্রয়ের সুযোগ খোঁজেন। তাই এই ধরণের পতন নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরেই জিকিউ বলপেন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেড, ডমিনেজ স্টীল, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মতো স্বল্পমূলধনী কোম্পানির শেয়ারকে ঘিরে কারসাজির ঘটনা ঘটছে। ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই)-এর পক্ষ থেকে কোম্পানিগুলোর কাছে কোন সংবেদনশীল তথ্য আছে কি না জানতে চাওয়া হলেও কোম্পানিগুলো গৎবাঁধা উত্তর দিয়েছে।

টানা দরপতনের সঙ্গে লেনদেনের গতি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, টানা উত্থানের পর কিছুটা মূল্য সংশোধন হবে এটা স্বাভাবিক। ডাকসু নির্বাচনের সঙ্গে পুঁজিবাজারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, তবে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব থাকলেও থাকতে পারে। কারণ পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডারদের বড় অংশই বিএনপিপন্থি। যাইহোক এই দরপতন দীর্ঘ হবে না বলে আশা করছি।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। টানা সূচকের উত্থানের পর মূল্য সংশোধন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ। এছাড়া পুঁজিবাজারে ডাকসু নির্বাচনের কোনো প্রভাব নেই। দু’দিনের যে দরপতন, তা স্বাভাবিক। তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারে কখনো দাম বাড়বে, আবার দাম কমবে এটাই স্বাভাবিক। টানা দাম বাড়া বা টানা দাম কমা স্বাভাবিক লক্ষণ না। আমরা আশা করি উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই পুঁজিবাজার সামনে এগিয়ে যাবে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১২৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৩ টির, দর কমেছে ৩১৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১ টির। ডিএসইতে ৯৪৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৭৭ কোটি ২৬ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪২৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৫০ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৭৬ টির এবং ২৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।