ডিএসইতে এক বছরের মধ্যে সব্বোর্চ লেনদেনের নতুন রেকর্ড, ফের বাজারমুখী হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দীর্ঘ মন্দা আর অনিশ্চয়তার পর দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। ফলে টানা কয়েক মাস ধুঁকতে থাকা বাজারে হঠাৎ সূচকের উল্লম্ফন ও লেনদেনের মাত্রা বাড়ায় অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে লেনদেন খরা কাটিয়ে উঠেছে দেশের পুঁজিবাজার। গত কয়েক কার্যদিবস ধরে ধারাবাহিকভাবে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হচ্ছে।
দিন যত যাচ্ছে লেনদেনের গতি ততই বাড়ছে। ডিএসইতে বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের একের পর এক নতুন রেকর্ড হচ্ছে। তবে ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা গত ২ বছর ১০ মাস বা ৩৪ মোসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন পুঁজিবাজারের স্বপ্ন দেখছেন।
গত এক বছরে সরকারের সদিচ্ছা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) উদ্যোগে পুঁজিবাজার থেকে হারানো আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। ফলে গত কয়েকদিনের তেজিভাবের কারণে ফের বাজারমুখী হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে বাজারে যে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছিল, সেটা স্বস্তিকর অবস্থায় ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করছে। ফলে সূচকের উঠানামার মধ্যে স্থিতিশীল হচ্ছে পুঁজিবাজার। এর ফলে এই পরিবর্তন শুধু সূচকের বৃদ্ধি নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরে আসারও ইঙ্গিত বহন করছে। পুঁজিবাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করেছে।
প্রথমত, দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিগুলো ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে, যা বিভিন্ন কোম্পানির কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা, বিশেষ করে পুঁজিবাজারের জন্য নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। এই পদক্ষেপগুলোর কারণে বাজারের স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হয়েছে।
এছাড়াও, বেশ কিছু কোম্পানির পক্ষ থেকে ভালো ডিভিডেন্ড ঘোষণার প্রত্যাশা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগকারীরা এমন শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে ভবিষ্যতে ভালো রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ বেড়েছে, যা লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে এবং বাজারকে আরও গতিশীল করতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ছোট বিনিয়োগকারীরা এখন বাজারের প্রতি বেশ আকৃষ্ট হচ্ছেন, যা বাজারের গভীরতা বাড়াচ্ছে।
এদিকে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। তবে টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬৩৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক. ৬১পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ২২৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৮৮ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৮ টির, দর কমেছে ১২৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫ টির।
ডিএসইতে ১ হাজার ৪৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৩৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭২৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৫৫ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১৪৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৬ টির এবং ২৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

