স্পেশাল করেসপেন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: আলাদিনের চেরাগের মতো পুঁজিবাজারের মাধ্যমেও রাতারাতি বড় লোক হওয়া যায়, সেই কল্পিত কথাই যেন সত্যি করে দেয়ার ব্রত নিয়েছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড (আইএসএনএল)।

মুলত কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পুঁজিবাজারে আইএসএনএল শেয়ার নিয়ে কারসাজি চলছে। এমনকি কোন কিছু না জেনেই কৃত্রিম ক্রেতার ফাঁদে পড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে সহজ সরল বিনিয়োগকারীরা। কোম্পানিটির রিজার্ভ মাইনাস থাকলেও মাত্র ১ মাসের কম সময়ের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম দ্বিগুনের বেশি।

তবে অস্বাভাবিক শেয়ারের দাম বাড়লেও নেই কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা কারণ। তা হলে কী হাওয়ায় বাড়ছে ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক। এ প্রশ্ন এখন বিনিয়োগকারী সহ বাজার সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ রয়েছে শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজ থেকে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজি চলছে। তবে বিএসইসি ও ডিএসইকে খতিয়ে দেখার দাবী তুলছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের এমন দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক আর্থিক ভিত্তি খুব একটা শক্তিশালী নয়। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটি কখনো বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

অথচ কোম্পানিটির শেয়ার দাম সম্প্রতি হু হু করে বেড়েছে। এই দাম বাড়ার প্রবণতা দেখলে সহজেই বোঝা যায় কারসাজির মাধ্যমে কোনো বিশেষ চক্র এটা বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক শেয়ারের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

তথ্য মতে, গত ১৯ আগস্ট কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ডিএসইকে জানিয়েছে, কোনো প্রকার অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারের দাম বাড়ছে। ইনফরমেশন সার্ভিসেসের গত ৭ আগস্ট শেয়ার দর ছিল ৪২.২০ টাকায়। যা ২৭ আগস্ট লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৯৬.১০ টাকায়। তবে দিনভর শেয়ারটি ৯২.৭০ টাকা থেকে ১০২.১০ টাকা উঠানামা করে। অর্থাৎ ১৪ কার্যদিবসে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৫৩.৯০ টাকা বা দ্বিগুনের বেশি অথাৎ ১৩০ শতাংশ। এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ডিএসই কতৃপক্ষ।

সূত্র মতে, পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও কারসাজি রোধ করতে এবার নিজস্ব অর্থায়নে নজরদারি বা সার্ভিল্যান্স সক্ষমতা বাড়াচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার বা সিস্টেমের হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যার হালনাগাদকরণের (আপগ্রেড) মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে নজরদারিতে দুই-তিন গুণ সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করে কমিশন।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড শেয়ার দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে কারসাজির সন্দেহ করা স্বাভাবিক। কোনো বিশেষ গ্রুপ না থাকলে এভাবে শেয়ার দাম বাড়তে পারে না। এর আগেও কিছু কোম্পানির শেয়ার দাম এমন অস্বাভাবিক বাড়তে দেখা যায়। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর মাধ্যমে একটি বিশেষ চক্র সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে, বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুঁজিবাজার।

তিনি বলেন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড শেয়ার দাম বাড়ার পিছনে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত তদন্ত করে বের করা। যদি কোনো কারসাজির ঘটনা ঘটে তবে কারসাজি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে বারবার বাজারে কারসাজির ঘটনা ঘটবে।