শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে বড় মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আইনগত পদক্ষেপ ও গোয়েন্দা তৎপরতায় নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক এ ধরনের একটি চক্র শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা রোধে থানায় মামলা দায়ের করেছে ডিএসই।

মঙ্গলবার রাজধানীর ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসাদুর রহমান।

তিনি জানান, প্রতারকরা ডিএসইর অনুমোদিত প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মেসেজ পাঠায়। বড় মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে অল্প অঙ্কের টাকা নেয়, পরে সামান্য মুনাফা দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে। এরপর ধীরে ধীরে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বন্ধ করে দেয়।

একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে আসাদুর রহমান বলেন, প্রথমে ৪ হাজার টাকা নিয়ে ২ হাজার টাকা মুনাফা দেয়। পরে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে বলে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে মুনাফা যাচ্ছে না, সমস্যা সমাধানের জন্য আরও ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। বিনিয়োগকারী সেই টাকা দেওয়ার পরও তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।

তিনি আরও জানান, প্রতারকরা টি-১ ডেটে জেড গ্রুপের শেয়ার বিক্রির প্রলোভনও দেখাচ্ছে, অথচ বাস্তবে টি-১ ডেটে শেয়ার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছে এবং বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসইর লোগো ও ঠিকানা অবৈধভাবে ব্যবহার করছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, চক্রটি দ্রুত মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, এতে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা যেমন বাড়ছে, তেমনি এই প্রতারণা বাজারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

প্রতারণা ঠেকাতে ডিএসই ৩ আগস্ট খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে সব ট্রেকহোল্ডারকে চিঠি দিয়েছে। পরে ২৬ আগস্ট থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পাশাপাশি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা চেয়ে বিএসইসিকেও আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে ডিএসই। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে আসাদুর রহমান বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদিত স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও মোবাইল অ্যাপ ছাড়া শেয়ারবাজারে লেনদেনের কোনো বৈধ উপায় নেই। তাই কারও প্রলোভনে পড়ে অন্যভাবে লেনদেন করবেন না।

তিনি আরও জানান, প্রতারক চক্রকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কোনো সন্দেহ হলে ডিএসই, সিএসই বা বিএসইসির ওয়েবসাইটে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার জন্য। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূইয়া এবং বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালামও উপস্থিত ছিলেন।