মার্জিন ঋনে কড়াকড়ি আরোপের খবরে পুঁজিবাজারে ফের সূচকের দরপতনে
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: মার্জিন ঋনে কড়াকড়ি আরোপের খবরে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত গত মঙ্গলবার বিএসইসি প্রকাশিত ‘মার্জিন বিধিমালা (রহিতকরণ), ২০২৫’ এর খসড়া অনুসারে, শেয়ার কেনার জন্য মার্জিন ঋণ পেতে একজন বিনিয়োগকারীর বছরে গড়ে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে।
অর্থাৎ ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে এমন খবরে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে বাজারে। ফলে লেনদেনের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতায় থাকলেও শেষ ঘণ্টায় শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকের পতন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে যে কোন ইস্যুতে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন শর্ত বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাজারে ওঠানামার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এছাড়া টানা সাত কার্যদিবস পতনে ডিএসইর সূচক ২২২ পয়েন্ট সূচক উধাও হয়ে যায়। এরপর টানা তিন কার্যদিবস সূচকের উত্থানে ১০৫ পয়েন্ট পুনরুদ্ধার করে। তবে স্থিতিশীল হতে না হতেই ফের অস্থিরতার ঘূর্ণিপাকে পড়ে পুঁজিবাজার।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার ডিএসইর সূচক কমে ৯ পয়েন্ট, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে তীব্র হয়ে সূচকের পতনে প্রায় ৩১ পয়েন্ট উধাও হয়। ফলে বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন মার্জিন ঋণ নীতিকে।
জানা গেছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৬ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৮ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৪ টির, দর কমেছে ২২৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১ টির। ডিএসইতে ৯৫৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৮৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯০ পয়েন্টে। সিএসইতে ২২৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৯০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৯ টির এবং ২৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

