শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দীর্ঘ দর পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সহ বিভিন্ন মহলের একান্ত চেষ্টায় গত দুই মাস ধরে কিছুটা গতি ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজারে। তবে গতি ফিরতে না ফিরতে ফের টানা দরপতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন চলছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে।

এনিয়ে টানা চার কার্যদিবস সূচকের পতনে লেনদেন চলছে। তবে সূচকের পতন হলেও নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছিল বিনিয়োগকারীরা। কারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুঁজিবাজার উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পুঁজিবাজারে আবারও সুদিন ফিরে আসবে এই আশায় বুক বাধছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে গত কয়েক কার্যদিবস টানা দরপতনে কিছুটা অনিশ্চিয়তার মধ্যে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

ফলে বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কারণ গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে টানা উত্থানে লেনদেন চলছে। টানা উত্থানের পর একটু কারেকশন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ। এছাড়া খুব দ্রুত সময়ে বাজার ঘুরে দাঁড়াবো বলে মনে করছেন তারা।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী মতে, এর আগে তিন কার্যদিবসে টানা উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক বেড়েছিল ২৩৮ পয়েন্ট। এরপর গত চার কার্যদিবস টানা পতনে ডিএসইর সূচক কমেছে ১৮৫ পয়েন্ট। সুতারাং বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

এছাড়া শীর্ষ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকের পতন হয়েছে। গত কয়েক কার্যদিবস ধরে স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি), লাফার্জহোলসিম এবং ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোর মতো ব্লু চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকের পতন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এসব শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিক্রি করছেন। তাছাড়া বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী প্রতিদিনের কেনাবেচায় বিশ্বাসী। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও ট্রেডিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে বাজার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারছে না।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, পুঁজিবাজারে উত্থান পতন থাকবে। একটানা উত্থানের পর একটু কারেকশন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ। বাজার শিগগির ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দৃঢ় করবে বলে তারা মনে করেন। তারা আরো বলেন, কোম্পানিগুলোর বড় বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিগুলো থেকে সাময়িক মুনাফা তুলে নিয়েছেন। তাদের মুনাফা তোলার মাত্রা প্রায় শেষ। এখন কোম্পানিগুলোর শেয়ার ফের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৫১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০১ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৯ টির, দর কমেছে ২৪৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫ টির। ডিএসইতে ৭৬০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৫৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ২২২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৯ টির এবং ২৫ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।