শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে ফের টানা দরপতন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসে সূচকের পতনে লেনদেন লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে টানা দরপতন ঘটায় বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োকারীরা। ফলে সপ্তাহজুড়ে ডিএসই ও সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধনও বেড়েছিল ৪ হাজার ৮৪ কোটি ১ লাখ টাকা।

এর ফলে সপ্তাহজুড়ে বাজার মূলধন বাড়লেও সূচক ও লেনদেন মন্ধার কারণে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীর সেই উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেনি পুঁজিবাজার। তবে এর মাধ্যমে টানা নয় সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ালো ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ডিএসইর বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৩৮টির স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৭টির। এছাড়া ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এরপরও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ১২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা।

অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ। গত ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদের পর থেকে পুঁজিবাজারে টানা ৮ সপ্তাহ দরপতন হয়। টানা ৮ সপ্তাহের পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে ২৬ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। সেসময় প্রধান মূল্যসূচক কমে ৫৮২ পয়েন্ট। টানা ৮ সপ্তাহ পতনের পর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে।

সে থেকে পুঁজিবাজারে টানা বাজার মূলধন বাড়তে দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহের আগের ৮ সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ে ৬৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ নয় সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন ৬৮ হাজার ৯৫ কোটি টাকা বেড়ে গেছে। বাজার মূলধন বাড়ার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে।

বাজার মূলধন বাড়লেও গত সপ্তাহে মূল্যসূচক কমেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে কমেছে ৩৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ। আগের আট সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ৮০৪ পয়েন্ট। বিদায়ী সপ্তাহে সূচকের পতনে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। সপ্তাহটিতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দরও কমেছে। তবে এ সপ্তাহে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৯ কোটি টাকায়।

অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বা দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৩ হাজার ৬৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ৪ হাজার ১৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ৫৪৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা কমেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০৮ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৭০ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ৯৭ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৩ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮ টির, কমেছে ২২৭ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সপ্তাহজুড়ে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই (৯.৩৬) পয়েন্ট বা ০.০৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক (০.৩২) শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৪৩৭ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক (০.০৯) শতাংশ কমে ৯ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ০.৮৫ শতাংশ বেড়ে ৯৫৬ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ০.৩১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২৭ হাজার ২৫১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ২৬ হাজার ২৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। টাকায়।

অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ২২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ১১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা।