পুঁজিবাজারে নতুন আশায় সক্রিয় হচ্ছেন প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরা, ঢুকছে নতুন ফান্ড
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুঁজিবাজারে কিছুটা গতি ফিরেছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার খবরে পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে এক হাজার একশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
চলতি বছরে এই প্রথম ডিএসইতে এক হাজার একশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলো। এর মাধ্যমে প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের ঘটনা ঘটলো। এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়ার দিনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় একশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের গতি।
ডিএসইর মতো অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই) মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সিএসইর সার্বিচ মূল্যসূচক প্রায় ৩০০ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান হলো।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমানো এবং সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় পুঁজিবাজারে সূচকের টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মুলত দীর্ঘদিন পর পুঁজিবাজারে সূচকের টানা উত্থানে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ১৫ শতাংশ কমাতে পারা সরকারের একটি বড় সাফল্য।
এতে পোশাক খাতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার সরকারের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এ কারণে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। বাজারের এ চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে পুঁজি হারা বিনিয়োগকারীরা ফের বাজারমুখী হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতির ক্রমাগত হ্রাস এবং জাতীয় নির্বাচনের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি কিছু কোম্পানির মুনাফার ইতিবাচক প্রভাব ও লভ্যাংশ ঘোষণার প্রত্যাশা এবং ব্যাংকগুলোর সুদের হারে সামঞ্জস্য আনার উদ্যোগ বাজারে তারল্য বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
পাশাপাশি পুঁজিবাজারে নতুন করে কিছু বড় বিনিয়োগকারীর আগমনের আভাস মিলছে। ফলে নিস্কিয় থাকা অনেক বিনিয়োগকারীও আবার সক্রিয় হচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বাজারমুখী হচ্ছেন ধীরে ধীরে। সব মিলিয়ে বাজারের চারপাশে গতিশীলতার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক ডিএসইর এক সদস্য বলেন, দিন যতই যাচ্ছে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা কেটে যাচ্ছে। কারণ সরকারের দায়িত্বশীলরা বার বার বলছেন নির্বাচনের জন্য যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, সেই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আবার আলোচনার মাধ্যমে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমাতেও সক্ষম হয়েছে।
এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। তাছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজার টাকার একটি অংশ সেখানে চলে যায়। এখন সুদের হার কমায় সেই টাকা পুঁজিবাজারে ফিরতে শুরু করেছে। এ কারণে বাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সঙ্গে লেনদেনের গতিও বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে সূচক ও লেনদেনে। যদিও দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির, তবে বাজার মূলধন ও সূচকে তেমন কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থা ফিরছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এছাড়া বড় মুলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক হু হু করে বাড়ছে।
তবে বাজারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে শেয়ারের দরপতনের হার কমিয়ে আরও স্থিতিশীল প্রবণতা গড়ে তোলা জরুরী। তেমনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে কোম্পানির মৌলিক তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে বেড়েছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৯২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৩৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৫০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৮ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১৮ টির, দর কমেছে ১২২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ১৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবস থেকে ১০১ কোটি ১ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৭০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৭২ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১৫৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫৮ টির এবং ২২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২০ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

