শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পুনরুদ্ধার এবং আসন্ন মুদ্রানীতিতে সুদের হার কমার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন আস্থা তৈরি হয়েছে।

ফলে আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এমন আশাবাদেই নতুন নতুন বিনিয়োগ আসছে। এ ধারাবাহিকতায় আট কার্যদিবসে টানা উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩৩১ পয়েন্ট।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে চাঙাভাব বিরাজ করছে। ফলে বেড়েছে সূচক। সেইসঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম। এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া গত ১০ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে লেনদেনে। ফলে পতন থেকে বের হয়ে দেশের পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে বেড়েছে বাজার মূলধন। পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা সাত সপ্তাহ পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক বাড়লো।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৯২ পয়েন্টে। যা বুধবার ৯৩ পয়েন্ট, মঙ্গলবার ৫১ পয়েন্ট, সোমবার ২৬ পয়েন্ট, রোববার ৬২ পয়েন্ট, এবং আগের সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ১৬ পয়েন্ট, বুধবার ৫৫ পয়েন্ট ও মঙ্গলবার ০.৩৭ পয়েন্ট বেড়েছিল। এই ৮ কার্যদিবসে মোট ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩৩১ পয়েন্ট।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে ডিএসই ও সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে। একইসঙ্গে উভয় পুঁজিবাজারে সপ্তাহজুড়ে বাজার মূলধন বেড়েছে ৩৭ হাজার ৭৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

এর মধ্যে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২০ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। ডিএসই ও সিএসইর সপ্তাহজুড়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সমাপ্ত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। আর সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮ হাজার ৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২০ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

বিদায়ী সপ্তাহে বেড়েছে ডিএসইর সব কয়টি সূচকও। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২৫৯ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ১৫৩ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ৫২ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।

সূচকের উত্থানের পাশাপশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ২৯৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ৮৮৯ কোটি ১১ লাখ টাকা।

প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৭৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৫৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৬৮১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২১৫টি কোম্পানির, কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সপ্তাহজুড়ে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৮৪.২২ পয়েন্ট বা ৪.৭৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৩ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ৬.৯৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ২৫১ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ৬.৯৭ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ১৯৪ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ৩.৮৫ শতাংশ বেড়ে ৯৪৫ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ৩.৫৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২১ হাজার ৭৩৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ১৭২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ১৬ হাজার ৫৬৫ কোটি ৬ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৯১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৬১ কোটি ৫ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে মোট ৩৩৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৭টির, দর কমেছে ১২২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির শেয়ার ও ইউনিট দর।