পুঁজিবাজারে আসছে নতুন ফান্ড, টানা উত্থানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পুনরুদ্ধার এবং আসন্ন মুদ্রানীতিতে সুদের হার কমার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন আস্থা তৈরি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে তেজিভাব লক্ষ করা গেছে। ফলে বেড়েছে সূচক। আগামীতে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারে নতুন ফান্ড আসায় প্রতিদিন লেনদেন বাড়ছে। সেইসঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এছাড়া গত আট মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে লেনদেনে। ফলে পতন থেকে বের হয়ে দেশের পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যার ফলে পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ কোম্পানি। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে বেড়েছে বাজার মূলধন। পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা ছয় সপ্তাহ পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক বাড়লো।
গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। আর প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে এক শতাংশের বেশি। দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে প্রায় তিনশো কোম্পানি। আর দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে সাতশো কোটি টাকার কাছাকাছি হয়েছে। একই সঙ্গে ছয় সপ্তাহের টানা উত্থানে ডিএসইর বাজার মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারণা করা হচ্ছে আগামী ৩১ জুলাই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। এই মুদ্রানীতির মাধ্যমে সুদের হার আরও কমানো হতে পারে। এটি সত্যি হলে পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এছাড়া টানা উত্থানে বাজারের প্রতি আস্থা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। ফলে পুঁজি হারা বিনিয়োগকারীরা ফের বাজারমুখী হচ্ছেন। যার ফলে ধীরে ধীরে লেনদেন বেড়েছে। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক।
পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের সভাপতি আ ন ম আতাউল্লাহ নাঈম বলেন, গত জুলাই থেকেই পুঁজিবাজারের ইতিবাচক অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের পর পরই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ঢালাও পতনের মুখে ছিল পুঁজিবাজার। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়ে যাওয়ায় আমাদের রপ্তানিসহ রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা আমাদের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করবে।
তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে আসন্ন মুদ্রানীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার কমাবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে পুঁজিবাজারের জন্যও খুবই ইতিবাচক হবে। তখন প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বড় ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকে না গিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন।
এদিকে সপ্তাহজুড়ে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৮১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৩৬ কোটি ২১ লাখ টাকা।
অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। ফলে ৫ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।
আগের সপ্তাহ শেষে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজার মূলধন বেড়েছে ১০ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বাজারে সার্বিকভাবে গতি ফিরে আসায় বেড়েছে মূল্যসূচকও। সপ্তাহ শেষে প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচক আরও বেশি বেড়েছিল। ঐ সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৭৩ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৩ হাজার ৪০৮ কোটি ১২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ২ হাজার ৫৪৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ৮৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৩২ পয়েন্টে।
অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১১৯ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৯৩৬ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৪ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২৯০ টির, কমেছে ৮০ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

