শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের পতন হলেও বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। কারণ টানা ছয় কার্যদিবস সূচকের উত্থানের পর মুনাফা তোলার চাপে সূচকের কিছুটা কারকেশন হয়েছে। এদিন কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অনেক উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে যে ৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন সেটি নিয়েও এরই মধ্যে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একাধিক বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপকালে বলেন, পুঁজিবাজার তার নিজস্ব গতিতে চলবে। বাজার একটানা উত্থান হলে একটু প্রফিট টেকিং এর চাপ থাকবে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তাছাড়া একটানা উত্থান যেমন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয়, তেমনি একটানা দরপতন কোন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুঁজিবাজারে দীর্ঘ সময়ের দরপতনের ধাক্কা কাটিয়ে গত জুন মাসের শুরু থেকে উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। ফলে জুন মাসে ১৬ কার্যদিবসের মধ্যে ১১ কার্যদিবস বেড়েছে সূচক। আর বাকি পাঁচ কার্যদিবস সূচক কমেছে। মুলত ১১ কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে ৩৬৪ পয়েন্ট। এছাড়া ৫ কার্যদিবসে সূচক কমেছে ১৬৬ পয়েন্ট। ফলে সূচকের উঠানামার মধ্যে স্থিতিশীল হচ্ছে পুঁজিবাজার।

এদিকে এখন পর্যন্ত জুলাই মাসে ৮ কার্যদিবসের মধ্যে ৬ কার্যদিবস সূচক বেড়েছে। আর বাকি দুই কার্যদিবস সূচক কমেছে। মুলত জুলাই মাসের ছয় কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে ২২৯ পয়েন্টের বেশি। তবে দুই কার্যদিবসে সূচক কমেছে ৫ পয়েন্ট।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুতে পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন। ফলে চলতি জুন শেষে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রবাসীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব কমেছে ৯ হাজারের বেশি। এখন যেসব বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে তাদের বিনিয়োগ সচল রেখেছেন তারাই এখন নতুন বিনিয়োগ করছেন। এই মুহুর্তে নতুন কোম্পানি নিয়ে আসা সম্ভব হলেই মন্দা কাটিয়ে সহজেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আরও একটি বড় ধরনের উত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পেতে শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী এক বছরে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

কিন্তু গত দেড় বছর ধরে শেয়ার সরবরাহ না থাকায় ভবিষ্যতে শেয়ার সংকট তৈরি আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে আগামীর বাবলকে রুখতে অবশ্যই ভাল মানের শেয়ারের যোগান বাড়াতে হবে। যা একেবারেই বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বর্তমান পুঁজিবাজার উঠানামার মধ্যে দিয়ে স্থিতিশীল হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৯৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯০০ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৫ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৬ টির, দর কমেছে ১৬৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৬ টির। ডিএসইতে ৫৬৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১০১ কোটি ৬২ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩৭ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৭ টির এবং ৩২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।