রহিম টেক্সটাইলের এক মাসে দর বাড়ছে ৫৩ শতাংশ, ডিএসই শোকজ
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের স্বল্পমুলধনী কোম্পানি রহিম টেক্সটাইলের শেয়ার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এরই মধ্যে শেষ ১৫ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৫০ শতাংশের ওপরে বেড়ে গেছে। এর মধ্যে শেষ পাঁচ কার্যদিবসেই দাম বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। শেয়ারের এমন দাম বাড়লেও কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি খুব বেশি শক্তিশালী না।
গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। এতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট। এই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দাপট দেখিয়েছে রহিম টেক্সটাইল। মুলত কোম্পানিটির শেয়ারের এমন দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, রহিম টেক্সটাইলের আর্থিক ভিত্তি খুব একটা শক্তিশালী নয়। অথচ কোম্পানিটির শেয়ার দাম সম্প্রতি হু হু করে বেড়েছে। এই দাম বাড়ার প্রবণতা দেখলে সহজেই বোঝা যায় কারসাজির মাধ্যমে কোনো বিশেষ চক্র এটা বাড়াচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে ব্যাংক খাতের শীর্ষ একটি ব্রোকারেজ হাউজ থেকে শেয়ারটি নিয়ে কারসাজি চলছে। এ বিষয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত।
একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত রহিম টেক্সটাইলের শেয়ারের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। এদিকে রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কারণ জানে না বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে সম্প্রতি ডিএসই কোম্পানিটিকে নোটিশ পাঠায়। এর জবাবে ১৩ জুলাই কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ার দর এভাবে বাড়ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু গত সপ্তাহ নয়, গত ১৫ জুনের পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ১৫ জুন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১০০ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে এখন ১৫৪ টাকা ২০ পয়সা উঠেছে। অর্থাৎ ১৫ কার্যদিবসে বা এক মাসের কম সময়ের মেধ্য কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৫২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি ১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। তার আগের ২০২২ সালে ১০ শতাংশ নগদ, ২০২১ সালে ১০ শতাংশ নগদ এবং ২০২০ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
স্বল্প মূলধনের এই কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা মাত্র ৯৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬৮৩টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৭০ দশমিক ৯৪ শতাংশ আছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ২১ দশমিক ৬৭ শতাংশ আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ শেয়ার আছে।
ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাজারে যেভাবে বিনিয়োগ বাড়ছে, তাতে শেয়ারের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে নতুন শেয়ারের সরবরাহ বাড়ছে না। ফলে একই কোম্পানির শেয়ারের ওপর চাপ বাড়ছে এবং দাম বাড়তে বাড়তে অতিমূল্যায়নের দিকে যাচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য ক্ষতিকর।

