শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। মাঝে মধ্যে পুঁজিবাজারে সূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতার প্রবণতা দেখা মিললেও পরক্ষণেই আবার দরপতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হচ্ছে। ফলে বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এ অবস্থায় মধ্যে বছরের পর বছর পার করছে পুঁজিবাজার। ফলে বাজার নিয়ে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে বিনিয়োগকারীদের মাঝে।

তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর থেকে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করছিলেন। পুঁজিবাজারে আবারও সুদিন ফিরে আসবে এই আশায় বুক বাধছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তবে বার বার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার।

এদিকে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকের বড় দরপতন হলেও সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের উত্থান হলেও আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। তবে সূচকের উত্থানে একইসঙ্গে বেড়েছে টাকার পমিাণে লেনদেন এবং বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটর দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তিনি পুঁজিবাজারের কাঠামোগত সংস্কার, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি, নীতিগত সহযোগিতা এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় আইপিও জারি নিয়ে যেসব সুপারিশ ও উদ্যোগের কথা বলেছেন, সেগুলো দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত। বিশেষ করে এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুঁজিবাজারকে মূলধন আহরণের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঈদের ছুটি শেষে গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ কার্যদিবসেই সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সপ্তাহের শুরুতে সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শুরু হলেও সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এছাড়া চলতি জুন মাসের শুরু থেকে উত্থানে ছিল পুঁজিবাজারে।

এই সময়ের মধ্যে ১১ কার্যদিবস লেনদেনে ৭ কার্যদিবস বেড়েছে সূচক। আর বাকি চার কার্যদিবস সূচক কমেছে। এর আগের মাসে ধারাবাহিক পতনের পর সূচক যখন বেড়েছে তখন সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থানে ফিরে। পতনের বৃত্তে আটকে থাকা সূচক চলতি মাসে উত্থান ফিরলে বেশকিছু কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়তে থাকে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার। তবে গত ১৫ বছর বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার পায়নি। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে স্থিতিশীল পুঁজিবাজার এখন সময়ের দাবী।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৬৯৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ২৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০১ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২২০টির, দর কমেছে ১০৪ টির এবং দর পরিবর্তীত রয়েছে ৭৭টির। ডিএসইতে আজ টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২৭৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যা আগের দিন থেকে ৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ১২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১১২ পয়েন্টে। দিনভর সিএসইতে হাত বদল হওয়া ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৭৪ টির, কমেছে ৮৪ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির দর। আজ সিএসইতে ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।