স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচক বাড়লেও বাজার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। কারণ এর আগে এক কার্যদিবস সূচকের উত্থান হলেও তিন কার্যদিবস সূচকের বড় দরপতন হয়েছে। এভাবে মাসের পর মাস পার করছে পুঁজিবাজার। ফলে বর্তমান বাজারের প্রতি আস্থা সংকটে ভুগছে বিনিয়োগকারীরা।

একদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা, অন্যদিকে নীতিনির্ধারকদের অনাগ্রহ সব মিলিয়ে বাজার যেন পতনের এক গভীর গহ্বরে নিমজ্জিত। ফলে টানা দরপতনে পুঁজিবাজার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বিনিয়োগকারীরা। ফলে দিন যতই যাচ্ছে পুঁজিবাজারের হাহাকার ততই বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ মানেই লোকসান। যার ফলে পুঁজিবাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এমনকি পুঁজিবাজার থেকে নীরবে প্রস্থান করছেন হাজারো বিনিয়োগকারী। দীর্ঘমেয়াদি মন্দা, আস্থার সংকট এবং ভালো শেয়ারের অভাবে গত ১৫ মাসেই পুঁজিবাজার ছেড়েছেন বা নিস্কিয় হয়ে পড়েছেন ৬২ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী।

ফলে পুঁজিবাজারে গত ১৫ মাসেও আস্থা ফেরাতে পারেনি রাশেদ মাকসুদ কমিশন। গত বছরের ১৮ আগস্ট পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমেছে ১০৭৮ পয়েন্ট। মুলত রাশেদ মাকসুদ কমিশন যখন দায়িত্ব নেয় তখন ডিএসই সূচক ছিলো ৫৭৭৮.৬৩ পয়েন্ট। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইর সূচক এসে দাঁড়িয়েছে ৪৯৫০.৯১ পয়েন্ট। তবে নভেম্বর মাসের ১৩ তারিখ ১২২ পয়েন্ট সূচকের বড় দরপতনে ডিএসইর সূচক এসে দাঁড়িয়েছে ৪৭০২ পয়েন্ট।

বাজার বিশ্লেষণ জানা যায়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ১৫ মাস ধরে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সংস্কার করছে। তবে যতই সংস্কার করছে, ততই পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মুলত বাজার স্থিতিশীল না করে সংস্কারের ফলে বাজার আরো অস্থিতিশীল হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা দিনের পর দিন নি:স্ব হচ্ছে।

বাজারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে বিনিয়োগকারীরা। এতে করে বর্তমান কমিশনের সংস্কার এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপসংস্কার হিসেবে ধরা দিয়েছে। যে কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিছু করতে না পারলেও শুরু থেকে বিভিন্ন জনকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে বিএসইসিকে ‘শাস্তি কমিশন’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।

মুলত পুঁজিবাজারের স্বার্থে বিনিয়োগকারীরা রাশেদ মাকসুদকে অপসারণ চান। যার অপসারণেই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস বিনিয়োগকারীদের। এমনকি রাশেদ মাকসুদের অপসারণে পুঁজিবাজারে ১ হাজার পয়েন্ট সূচক বাড়বে বলে বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস। কারন রাশেদ মাকসুদ পুঁজিবাজার বুঝেন না। এটা শুধু সাধারন বিনিয়োগকারীদের কথা না। এই কথা এখন বিএসইসির সাবেক স্বনামধন্য চেয়ারম্যানসহ স্টেকহোল্ডারদের। তাই পুঁজিবাজারের স্বার্থে রাশেদ মাকসুদের অপসারণের বিকল্প নেই।

জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে সূচকের সাথে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯০৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৮ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৮৫ টির, দর কমেছে ৫৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭ টির। ডিএসইতে ৩৭৯ কোটি ৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৫০ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৩ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫৮ টির এবং ১৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।