শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বাজার কারসাজি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে ধুঁকছে দেশের পুঁজিবাজার। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নজরদারি জোরদার ও অস্বাভাবিক শেয়ার লেনদেনের তদন্ত দ্রুত শুরু এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফলে টানা দরপতনের ধারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে পুঁজিবাজার। যার ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে।

তবে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। কারণ গত দুই মাসে টানা দরপতনে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নতুন করে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উধাও হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে সূচকের টানা উত্থানের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।

তবে গত তিন কার্যদিবস ডিএসইর সূচকের ইতিবাচক আচরনে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে গত তিন কার্যদিবস ইতিবাচক অবস্থায় ফিরছে পুঁজিবাজার। মুলত টানা তিন কার্যদিবস ডিএসইর সূচকের উত্থানে ৪৬ পয়েন্ট পুনরুদ্ধার করেছে। একই সময়ে টাকার অঙ্কে লেনদেনও বেড়েছে প্রায় ৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

তবে সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো পুরোপুরি আস্থা ফিরে আসেনি। ফলে শেয়ার কেনাবেচায় সক্রিয় হওয়ার পরিবর্তে বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণেই বেশি সময় দিচ্ছেন তারা বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে দরপতনের কারণে পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন প্রায় তলানিতে পৌঁছানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ সময়ে বিনিয়োগকারীদের কেনা অনেক শেয়ার লোকসানে পড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ার বিক্রি না করে বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।

আগামী কয়েক দিন সূচক ও লেনদেন আরও জোরালোভাবে বাড়তে থাকলে বিনিয়োগকারীরা আবারও পুরোদমে শেয়ার লেনদেনে অংশ নিতে পারেন। এতে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে দরপতন ঠেকানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে বেড়েছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৫২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৫ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪০ টির, দর কমেছে ৯০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫ টির। ডিএসইতে ৪৯৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৮৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৭৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১০৯ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৩ টির এবং ২০ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।