পুঁজিবাজারে আস্থা সংকটে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে, লেনদেন ৪ শত কোটির ঘরে
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও বাজার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। কারণ গত দুই মাসের টানা দরপতনে বাজার নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে। এছাড়া বাজার সংস্কার নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে বলে আস্থার ঘাটতি রয়েছে বলে একাধিক বিনিয়োগকারী মনে করেন।
এছাড়া সূচকের ওঠানামার মধ্যে দিয়ে পুঁজিবাজারের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে না যার ফলে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই বিএসইসির এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া টানা দরপতনে ফলে ডিএসইতে লেনদেন এখন চারশত কোটি ঘরে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজারের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং সেসব সমস্যার কার্যকর সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। কারণ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয় এবং বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও নেতিবাচক মনোভাব বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ ও স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ বাজারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
জানা গেছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪২৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯২ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৫ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৭ টির, দর কমেছে ১৩৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১ টির। ডিএসইতে ৪১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৫ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৫৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭১ টির এবং ২০ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৬ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

