শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট-সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্ধ ঘোষিত কারখানার মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেডও রয়েছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এপেক্স হোল্ডিংসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শ্রমিকদের একটি অংশের দাবি ছিল ১০ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের ১৫ মাস এবং ৫ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের ৭ মাসের মূল মজুরি সার্ভিস বেনিফিট হিসেবে প্রদান করতে হবে।

এই দাবিকে ঘিরে ১৫ জুন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) জানায়, শ্রম আইন অনুযায়ী বেনিফিট পরিশোধ বাধ্যতামূলক। তবে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যমান সার্ভিস বেনিফিট নীতিমালা অনুযায়ী সুবিধা দেওয়া হলেও অতিরিক্ত কোনো সুবিধা প্রদান করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ১৮ জুন শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দেন, যা পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলার রূপ নেয়। পরে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা এ ধরনের বড় ঘটনা ‘মূল্যসংবেদনশীল তথ্য’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু এপেক্স স্পিনিংয়ের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) জনসংযোগ বিভাগের প্রধান সফিকুর রহমান বলেন, কোম্পানিটির কারখানা বন্ধের বিষয়টি আমাদের জানা নেই।

এ বিষয়ে জানতে এপেক্স স্পিনিংয়ের কোম্পানি সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানির এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আস্থার সংকট তৈরি করে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অজান্তে শেয়ার লেনদেন করে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাদের মতে, বিষয়টি নিয়ে ডিএসইর দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

উল্লেখ্য, এপেক্স হোল্ডিংসের অধীন বন্ধ হওয়া অন্য তিনটি কারখানা হলো—এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স লন্ড্রি মিলস লিমিটেড এবং এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব কারখানায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।