৩ কোম্পানির শেয়ারে কারসাজিতে তদন্তের নির্দেশ বিএসইসির
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের কারণে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড ও শ্যামপুর সুগার মিলস এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিএনআইসিএল) শেয়ার লেনদেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে কমিশনের সার্ভিল্যান্স বিভাগ কোম্পানি তিনটির শেয়ার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিএসইসির সার্ভেইলেন্স বিভাগ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পৃথক তিনটি চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে কমিশন। গত মাস থেকে এসব কোম্পানির শেয়ারের দর অস্বাভাবিকভাবে বড়ছিল।
বিএসইসির পর্যবেক্ষণেও কোম্পানিগুলোর শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন ও লেনদেনের আচরণ ধরা পড়েছে। এ কারণে ডিএসইকে বিস্তারিত তদন্ত করে সম্ভাব্য কারসাজি, সমন্বিত বা কৃত্রিম লেনদেন এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, কোম্পানি দুটির শেয়ারে কোনো সমন্বিত বা কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (ইউপিএসআই) ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং সংঘটিত হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন বা অন্য কোনো অনিয়মের বিষয়ও তদন্তের আওতায় থাকবে।
বিশেষ করে বন্ধ কোম্পানি শ্যামপুর সুগার মিলসের ক্ষেত্রে বারাকা সিকিউরিটিজ ও স্মার্ট শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ এই স্টক ব্রোকারের ভূমিকা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এগুলো সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে কি না বা কোনোভাবে সহায়তা করেছে কি না তাও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত প্রতিনিধিদের সন্দেহজনক লেনদেন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির নির্দেশও দিয়েছে বিএসইসি।
সূত্র জানায়, অস্বাভাবিক মূল্য ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণে গত ১১ জুন শ্যামপুর সুগার মিলস এবং ১৫ জুন সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত পরিচালনার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও (সিএসই) বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক মাসে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৬১ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারের দাম ১৩৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ২৩৮ টাকা ৯০ পয়সায় উঠেছে, যা প্রায় ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি। এর আগে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই ও সিএসই পৃথকভাবে কোম্পানি দুটিকে চিঠি দেয়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আরেক কোম্পানি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত ১৭ মে শেয়ারটির দর ছিল ৮২ টাকা ৭০ পয়সা, যা বেড়ে ৯ জুন ১১৬ টাকা ১০ পয়সায় ওঠে। পরে কিছুটা কমে গতকালের লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ১০৮ টাকা ৩০ পয়সায়।
তবে জবাবে উভয় কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই, যা শেয়ারের মূল্য বা লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক অবস্থা বা পরিচালনায়ও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে জানিয়েছে তারা।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, কোম্পানি দুটির শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণে শেয়ারগুলোর লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিএসইকে দরবৃদ্ধি ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

