শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে নির্ধারণ করা লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি, সরকারি ঋণনির্ভরতা, খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন কর ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সিপিডি আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন তিনি। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, আগামী অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। একইভাবে চলতি অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ শতাংশ, যা অর্জিত হয়নি। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তার ভাষ্য, সরকারি ব্যাংক ঋণ ক্রমাগত বাড়ছে, যা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কিছু কর কৃষি খাতের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য ও জ্বালানি আমদানির সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সাড়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে শিল্প উৎপাদন ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু জ্বালানি সংকট এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা এ ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম রয়েছে। আগামী অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যেখানে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে প্রবাসী আয় প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক রয়েছে। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, বাজেটে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা থেকে ১২৭ টাকায় উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

তার মতে, অর্থনীতি পরিচালনার বিভিন্ন উপাদান সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। তবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি দেখা দিলে সরকারকে ব্যাংকিং খাত থেকে আরও বেশি ঋণ নিতে হতে পারে, যা বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।

তার মতে, সম্প্রসারণমূলক বাজেট নীতি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নও চাহিদা বৃদ্ধি করে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা, জ্বালানি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে না।