শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অবসায়ন কিংবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী জুলাই মাস থেকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত কার্যকরে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস পাওয়ার পর গত ১২ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যে পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন কিংবা বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো: ফাস ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ও আভিভা ফাইন্যান্স। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আভিভা ব্যতীত অপর চারটি প্রতিষ্ঠানই দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত।

আগামী জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে খবরটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

অবসায়নের জন্য চূড়ান্তভাবে বিবেচনায় থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: ফাস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্স বাদের চারটি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলছেন, ‘এনবিএফআইগুলোর অবসায়ন প্রক্রিয়াটি যদি পূর্ণাঙ্গভাবে হয় তাহলে বিএসইসির কোনো আপত্তি নেই। এখানে দেখা যাচ্ছে, সরকারের বাজেট থেকে সহায়তা এনে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

ফলে আমানতকারীদের বিনিয়োগের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ৭৭-এ বর্ণিত দায়ী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অন্যান্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়কৃত অর্থ (বাজারমূল্য ও ফেসভ্যালুর মধ্যে যেটি বেশি) ফেরত দেওয়া হোক। পত্রপত্রিকা থেকে এনবিএফআইগুলো অবসায়ন হচ্ছে সেটা জানতে পেরেছি। অবসায়ন সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিএসইসিকে অবহিত করা হয়নি।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অবসায়ন কার্যক্রম শুরুর আগে আমানতকারীদের জন্য একটি বিশেষ পরিশোধ স্কিম ঘোষণা করা হবে। ওই স্কিমের আওতায় যেসব ব্যক্তি আমানতকারীর সঞ্চয়ের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার মধ্যে, তারা মূলধনের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। তবে কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে ১০ লাখ টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে আনুপাতিক হারে। অর্থাৎ তহবিলের প্রাপ্যতা এবং জমার পরিমাণ বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধ করা হবে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিএসইসি জানিয়েছে, বর্তমান অবস্থার জন্য কোনোভাবেই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দায়ী নয়। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা- ৭৭ এ বর্ণিত দায়ী ব্যক্তিরা নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের এই অবস্থার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী, যা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে স্বীকৃত।

তাই নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়নসংক্রান্ত সব তথ্য নিয়মিত বিনিয়োগকারীদের জানানো; ক্ষতিপূরণে বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা; সম্পদ, জামানত ও দায়ী ব্যক্তিদের সম্পত্তি বিবেচনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ নির্ধারণ, দায়ী ব্যক্তিদের শেয়ার বাদে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের ন্যূনতম মূল্য নিশ্চিত করা এবং শেয়ারের মূল্য ঘোষণা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়ন না করার বিষয়টি বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।