শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে ছয়টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে। এসব গোষ্ঠীর ঋণ অনিয়মের কারণে অন্তত ২৮টি ব্যাংক বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ও বিদেশে সঞ্চিত সম্পদ শনাক্ত করে তা ফেরত আনতে ইতোমধ্যে দেশি ব্যাংকগুলো একাধিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগের আওতায় থাকা ছয়টি গোষ্ঠী হলো: এস আলম গ্রুপ, আরামিট গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ এবং নাসা গ্রুপ। ব্যাংক দখল, নামে-বেনামে ঋণ গ্রহণ এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আরামিট গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করায় ৯টি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এস আলম গ্রুপের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঋণের পরিমাণ দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যার বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ গ্রুপের কারণে ১৩টি ব্যাংক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ এখন খেলাপি, যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। সিকদার গ্রুপের প্রভাবে ১১টি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

Space for ads
নাসা গ্রুপের নেওয়া প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাবে ১১টি ব্যাংক সংকটে পড়েছে। অন্যদিকে, ওরিয়ন গ্রুপ ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, যা ১২টি ব্যাংকের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পদ অনুসন্ধান ও পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিদেশি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক এনডিএ সই করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও সম্পদ উদ্ধারে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত এ টাস্কফোর্সে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে একটি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) অংশ নিয়েছে। দলটি সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীগুলোর দেশি-বিদেশি সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের ও সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তাধীন ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭৭ শতাংশই এই ছয়টি গোষ্ঠীর কাছে কেন্দ্রীভূত। এ কারণে প্রথম ধাপে তাদের বিরুদ্ধেই দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।