স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ধারাবাহিকতায় নিট সম্পদের ঘাটতি থাকায় বড় ধরনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে।

প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ হিসেবে নিট সম্পদের ঘাটতি পূরণের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন। ওই সময়ের মধ্যে আর্থিক সক্ষমতা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ।

সূত্র জানিয়েছে, বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিট সম্পদ পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটালকে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তাদের নিবন্ধন সনদ বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া অন্যান্য সিকিউরিটিজ বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দাপ্তরিক পত্রের মাধ্যমে কঠোরভাবে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সিকিউরিটিজ আইন ও যথাযথ তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) সতর্ক করেছে কমিশন।

এর মধ্যে বিজিআইসিকে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনাধীন এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইসিবিকে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনাধীন এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনায় বিধিবিধান লঙ্ঘনের দায়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এই পুরো বিষয়টি তদারকি এবং নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া বা সতর্কবার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের মূলধন এবং আর্থিক ভিত্তি ধরে রাখতে না পারে, তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে। এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটালের ওপর এই কঠোর শর্ত আরোপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং ফান্ডের ট্রাস্টিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাইছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না কমিশন।

এ বিষয়ে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সোহেল নাদিম রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব ভালো নয়। এই মার্কেটে এখন টিকে থাকাই কঠিন। কোনোমতে আমরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। এমন পরিস্থিতিতে বিএসইসি শর্তানুযায়ী নিট সম্পদের ঘাটতি পূরণ করা খুবই কঠিন, তবুও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে কমিশনের এই কঠোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী না থাকলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ওপর আস্থাহীনতা সৃষ্টি হবে বিনিয়োগকারীদের। বিএসইসির এ কঠোরতা শেয়ারবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।