পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত হতে পারেনি: ডিএসই চেয়ারম্যান
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত হতে পারেনি। কারণ দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অবহেলা পুঁজিবাজারকে সংকুচিত ও পঙ্গু করে রেখেছিল। সেখান থেকে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। গত বুধবার নিকুঞ্জে ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদের সাথে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব পাবলিক লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
বৈঠকের শুরুতেই ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এই বৈঠককে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে বলেন, প্রথমবারের মতো তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমুহের বৃহত সংগঠন বিএপিএলসি’র সাথে ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একইসাথে তিনি সংগঠনের প্রেসিডেন্ট রূপালি হক চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান।
এসময় তিনি বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য বিএসইসিসহ সকল পক্ষই আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এছাড়াও রেগুলেটরী ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে টাস্কফোর্স কাজ করছে। আমরা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নিজেদেরকে ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণের চেষ্টা করছি। এছাড়াও লিস্টিং পরবর্তী সময়ে কমপ্লায়েন্স নিয়ে অভিযোগুলোর বিষয়ে ডিএসই আপনাদের হয়ে রেগুলেটরদের কাছে তুলে ধরছে।
মমিনুল ইসলাম বলেন, ভালো উদ্যোক্তারা যদি সঠিক প্রাইসিং পায়, তারা পুঁজিবাজারে আসবে, আর আন্ডাররাইটারই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স হিসেবে কাজ করবে। সংশোধিত আইপিও সিস্টেমে ভালো কোম্পানি আসতে পারবে এবং মন্দ কোম্পানিগুলো আটকানো যাবে।
গ্রীন চ্যানেল ও ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে ডিএসই দ্রুত আইপিও অনুমোদন দিতে পারবে। তিনি আরও বলেন বিভিন্ন সংস্থা ও অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সমন্বয় করে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে। ডিএসই এবং বিএপিএলসি’র মধ্যে সহযোগিতা দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই অংশীদারিত্ব বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে, নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বৈঠকে বিএপিএলসি’র চেয়ারম্যান রূপালি হক চৌধুরী বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বাজারের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বিএপিএলসি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডিএসই’র সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের পুঁজিবাজারকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করবে।
তিনি আরও জানান, আমাদের দেশের পুজিবাজারকে অনেক বড় করতে হবে। আর বড় করার জন্য কি করতে হবে এটি নিয়ে আমরা আরও আলোচনা করতে পারি। আমাদের সমস্যা নিয়ে বেশি আলোচনা করার চেয়ে সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে বেশি আলোচনা করা জরুরি।
রূপালি হক চৌধুরী আরও বলেন, নতুন নতুন আইডিয়া ও বিজনেস প্ল্যান দেখে যদি ছোট ছোট কোম্পানিগুলোকে পুজিবাজারে আনতে পারি তবে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে যারা তালিকাভুক্ত রয়েছে তাদের কমপ্লায়েন্সের বিষয়গুলো আরও সহজ করা প্রয়োজন।
বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিএপিএলসি’র প্রতিনিধিবৃন্দরা লিস্টিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা, কমপ্লায়েন্স ও সুশাসন কাঠামো, কর কাঠামো, আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা এবং যথাযথ মূল্যায়ন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্যাটাগরি, যোগ্য ও মানসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য গ্রীন চ্যানেল প্রবর্তন, রেগুলেটরদের মধ্যে সমন্বয় সাধন,
নীতি নির্ধারক, নিয়ন্ত্রক ও কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ, কোম্পানির মনিটরিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, নির্বিঘ্নে এজিএম আয়োজন, আইপিও’র ক্ষেত্রে ডাইনামিক ভ্যালুয়েশন মডেলের অভাব, ইউনিফাইড ডিজিটাল রিপোর্টিং সিস্টেমের অভাব, তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ন্যূনতম করের পার্থক্য এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্র বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ একমত হন যে, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও গঠনমূলক সহযোগিতার মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) ভবিষ্যতেও বিএপিএলসি’র সঙ্গে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএসই’র পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সৈয়দ হাম্মাদুল করীম, মোহাম্মদ শাহজাহান, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান।

