স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছোট মূলধনী ও পুঞ্জীভূত লোকসানি আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। মুলত দুর্বল, অচল ও লোকসানী কোম্পানির শেয়ারের ফাঁদে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। এছাড়া কিছু কোম্পানি আছে উৎপাদন সীমিত কিংবা একেবারেই উৎপাদনে নেই, অথচ শেয়ারদর বেশ চাঙা। আবার লোকসানে ব্যবসায় টিকে থাকা অনিশ্চিত এমন কোম্পানিও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুঁজিবাজারে। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক এবং পুঁজিবাজারের জন্য শুভ নয় বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান গত সপ্তাহে দায়িত্ব নিয়েই বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। গভর্নরের এমন বার্তায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ধ কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়তে শুরু করেছে। লাগামহীন দরবৃদ্ধির তালিকায় এমন কিছু কোম্পানিও আছে যেগুলো এখন অনেকটাই অস্থিত্বহীন।

মুলত উৎপাদন বন্ধ ও আর্থিক খাতসহ ১৭টি শেয়ারের দরবৃদ্ধি ও লেনদেন পর্যালোচনা করেছে দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ। এতে দেখা যায়, কোনোটির উৎপাদন নেই, এবং আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো দেউলিয়া অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে বাজারে লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে শেয়ারের দাম।

কোম্পানিগুলো হলো: নর্দান জুট, ফ্যামিলি টেক্সটাইল, তু হাই নিটিং, নুরানী ডাইং, অ্যাপোলো ইস্পাত, সুহ্রদ ইন্ডাস্টিজ, মেঘনা কনডেন্স মিল্ক, মেঘনা পেট, ইমাম বাটন, বিআইএফসি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফ্যাস ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং ফনিক্স ফাইন্যান্স।

তবে পুঁজিবাজারে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি কারসাজি ইস্যুতে নিরব আচরন করছেন। তবে গত ১৪-১৫ বছর ধরে অনিয়মের যে জঞ্জাল জমেছে, তা পরিষ্কার করে পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধ ও আস্থা ফেরানোই বিএসইসির প্রথমত কাজ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন একটি গনমাধ্যমকে বলেন, পুঁজিবাজারের নেতিবাবচক প্রবণতার দিনে বন্ধ কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে আস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি কারসাজির ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কারসাজি চক্র এ বার্তাকে ব্যবহার করে অস্তিত্বহীন কোম্পানির শেয়ার দর বাড়াতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

তবে পুঁজিবাজারে বাজে কোম্পানির প্রাদুর্ভাব নিয়ে ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, গত এক দশকে বাজারে ভালো কোনো আইপিও আসেনি। ফলে বাজে কোম্পানির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এসব কোম্পানিকে পুঁজি করেই কারসাজিকারকরা নিজেদের ফায়দা লুটছে। তবে চাইলেই স্কয়ার, এসিআই কিংবা ভালো মানের কোনো কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করা সম্ভব নয়। কিন্তু ভুঁইফোড় ও দেউলিয়া কোম্পানি বাজার অস্থিতিশীল করছে, বিপদে ফেলছে বিনিয়োগকারীদের। দ্রুত বিএসইসি নজরদারী প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।