শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন। তিনি বলেন বাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টক এক্সচেঞ্জ ও কোম্পানিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আজ মঙ্গলবার ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন ডিএসইর এই পরিচালক। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।

মিনহাজ মান্নান বলেন, পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গাগুলোর একটি হলো আর্থিক বিবরণী বোঝার সক্ষমতার ঘাটতি। নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের অন্তত কোম্পানির আর্থিক বিবরণী ও আর্থিক বিশ্লেষণ বোঝার সক্ষমতা থাকতে হবে। তা না হলে ডিজিটাল ঝুঁকি শনাক্তকরণ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা বা বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।

বিনিয়োগকারীদেরও বোঝাপড়ার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকে যথেষ্ট জ্ঞান ও পড়াশোনা ছাড়াই বাজারে বিনিয়োগ করেন। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন। তবে এই ক্ষতির দায় শুধু বিনিয়োগকারীর ওপর চাপিয়ে না দিয়ে এর দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ ও কোম্পানি ব্যবস্থাপকদের ওপরও বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বাজারের কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি। বাজার সম্পর্কে দক্ষ নেতৃত্ব থাকলে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব। পুঁজিবাজার সংস্কারে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার ফল আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন মিনহাজ মান্নান।

তিনি বলেন, বিশেষ করে মানহীন আইপিও বাজারে আসা ঠেকাতে নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে। শক্তিশালী যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানির আইপিও ঠেকানো গেলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ হারানোর ঝুঁকি কমবে। তবে শুধু আইপিও অনুমোদনের প্রক্রিয়া কঠোর করলেই হবে না, বিনিয়োগকারীদের অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কোম্পানিগুলো সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করছে, তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।

মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডিএসইর এই পরিচালক। তার মতে, যাদের ওপর বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, আগে তারাই অনেক ক্ষেত্রে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার করতে পারেননি। এ কারণে মিউচুয়াল ফান্ডের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ডিএসই পরিচালক পুঁজিবাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থা বা সিডিএল দ্রুত চালু করার ওপর জোর দেন।