শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু কোম্পানির আবির্ভাব ঘটে, যাদের শেয়ারদর আচমকা আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। বিনিয়োগকারীদের কাছে এগুলো তখন যেন হয়ে ওঠে ‘ সোনার হরিণ’। দেখতে লোভনীয়, ছুঁতে পারলে লাভের নিশ্চয়তা; কিন্তু বাস্তবে যার পেছনে থাকে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির দীর্ঘ ছায়া। সাম্প্রতিক সময়ে সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের তেমনই এক আলোচিত নাম।

ব্যবসায় ধারাবাহিক লোকসান ও উৎপাদন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। স্বল্প সময়ে এই দুই কোম্পানির শেয়ারের বড় উল্লম্ফন কারসাজির আশঙ্কা তৈরি করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, এক মাসেরও কম সময়ে লোকসানি প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারদর প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। গত ১০ মে এর দর ছিল ৩৩ দশমিক ৯০ টাকা, যা ২ জুন লেনদেন শেষে ৫৪ দশমিক ৪০ টাকায় পৌঁছায়। অস্বাভাবিক এই দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে ডিএসইকে কোম্পানিটি জানায়, কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ছাড়াই শেয়ারদর বেড়েছে।

অথচ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারপ্রতি ১৯ পয়সা লোকসান করেছে। এর আগের অর্থবছরেও শেয়ারপ্রতি ৮০ পয়সা লোকসানের কারণে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি কোম্পানিটি।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর এক মাসে প্রায় ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। গত ৪ মে শেয়ারদর ১৪ দশমিক ১০ টাকা থাকলেও ২ জুন তা ২০ দশমিক ৭০ টাকায় দাঁড়ায়। এই দরবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক মনে করে ডিএসই। এর কারণ জানতে চাইলেও কোম্পানিটি কোনো জবাব দেয়নি এবং তদন্তেও সহযোগিতা করেনি।

২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে কোম্পানিটি কোনো আর্থিক হিসাব প্রকাশ করছে না। ২০২৩ সালের পর থেকে লভ্যাংশ দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৪৫.৫০ শতাংশ।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোকসানি ও কার্যক্রমহীন কোম্পানির শেয়ারদরের এমন অস্বাভাবিক উত্থানে বাজারে কারসাজির আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন। বাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তারা।