স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ার নিয়ে সংঘবদ্ধ কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিরিজ ও সার্কুলার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে শেয়ারটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হওয়ায় ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ইতোমধ্যে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ার কারসাজি নিয়ে গত ২১ মে থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আরেকটি তদন্ত পরিচালনা করছে।

বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, কারসাজিকারীরা ওই সময়ের মধ্যেই এক কোটি টাকার বেশি রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন বা নগদ মুনাফা অর্জন করে। পাশাপাশি তাদের হাতে আট কোটি টাকার বেশি আনরিয়ালাইজড বা কাগুজে মুনাফাও ছিল। পরবর্তীতে একই শেয়ারের দাম আরও বাড়িয়ে প্রায় ১৬২ টাকায় নেওয়া হয়। ফলে চক্রগুলো এর মাধ্যমে আরও বড় অঙ্কের অবৈধ মুনাফা করেছে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এ কারণেই পরবর্তী সময়ের লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দ্বিতীয় দফা তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারের দাম ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছে, যা প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি। এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ছিল না আর্থিক সাফল্য, ব্যবসায়িক অগ্রগতি কিংবা কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৭(ই)(২) ও ১৭(ই)(৫) লঙ্ঘন করেছে।

প্রথম চক্রটির নেতৃত্বে ছিল ওমেগা ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এবং মো. মাশরুর আলম। তদন্তকালীন সময়ে ওমেগা ডিস্ট্রিবিউশন এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৩টি শেয়ার কিনে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের সর্বোচ্চ ক্রেতায় পরিণত হয়। তারা বিপুল শেয়ার সংগ্রহ করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করে।

দ্বিতীয় বৃহৎ সিন্ডিকেটটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মাকসুদা রেজা, মাকসুদা আহমেদ এবং তাদের দুই ছেলে শাহ মো. জামিউর রহমান ও শাহ মো. সামিউর রহমান। এই পরিবারটি প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজ, শান্তা সিকিউরিটিজ এবং এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজসহ মোট সাতটি ব্রোকারেজ হাউসের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সমন্বিতভাবে শেয়ার লেনদেন পরিচালনা করে।

এর মধ্যে মাকসুদা রেজা, মাকসুদা আহমেদ এবং তাদের দুই ছেলে একাধিক ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে ৩৩টি হাওলার মাধ্যমে ১ লাখ ১১ হাজার শেয়ারের সার্কুলার ট্রেডিং করেন।  তৃতীয় চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন মরিয়ম আক্তার মিতু, যার সঙ্গে মো. খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ আবুল হোসেন হাসান, আফরোজা আক্তার এবং মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম যুক্ত থেকে ২৮টি হাওলার মাধ্যমে কাউন্টারপার্টি ট্রেডিং করেছেন।

কারসাজির মাধ্যমে চক্রগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করলেও তদন্তে কোম্পানির কোনো উদ্যোক্তা, পরিচালক বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিএসইসির নির্দেশনায় এনফোর্সমেন্ট বিভাগ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৯.৯১ কোটি টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৯৯ লাখ ১২ হাজার ৩৫৭টি।