স্পেশাল করেসপেন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির এক তদন্তে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইপিও তহবিল অপব্যবহার, ভুয়া ব্যয় দেখানো, নগদ লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীদের ভোট জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড। কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে ও পরে নানাভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে মুনাফা ও কোম্পানির পরিচালন সক্ষমতাকে ভিন্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি স্বতন্ত্র পরিচালকের অবস্থান গোপন করার চেষ্টা করেছে।

আর তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সংগৃহীত তহবিল ব্যবহারে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এমনকি ওইসব অনিয়মের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সম্মতি নিতে ভোট চুরির আশ্রয়ও নিয়েছে কোম্পানিটি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্ত প্রতিবেদনে এমন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির পর আইপিও-এর অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহার, সময়মতো অর্থ ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ ব্যবহার শেষ করতে না পারা এবং পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আইপিও-এর অর্থ থেকে ঋণ দেওয়ার মতো অনিয়মে জড়িয়েছে। এছাড়া, এক আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহারের মাধ্যমে হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারীর ভোট চুরি করে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা পাস করিয়ে নিয়েছে। চেক অথবা ব্যাংক লেনদেনের পরিবর্তে নগদ লেনদেন করে আইন লঙ্ঘন করেছে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও ব্যয় বাড়িয়ে দেখাতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।

কোম্পানি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা কোনো অনিয়ম করেননি। কিছু কারণে আইপিও তহবিল ব্যবহার করতে দেরি হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিএসইসিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে।

বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থ প্রতিশ্রুত খাতে ব্যয় না করে পরিচালক ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ছেলের প্রতিষ্ঠান শরীব ট্রেড ও শান্ত এগ্রো অ্যান্ড ট্রেডিং ফার্মস লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছে ২০ কোটির বেশি টাকা, যা এখনো ফেরত আসেনি।

প্রসপেক্টাসে নতুন কারখানা ও কনজিউমার ব্র্যান্ড ইউনিট করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অগ্রগতি নেই। বিএসইসির পরিদর্শক দল গিয়ে সেখানে শুধু পুরোনো একটি ভবন ও দাপ্তরিক কার্যালয় পেয়েছে।

তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, ২০২৪ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ১,২০০-র বেশি বিনিয়োগকারীর ভোট চুরি করে আইপিও অর্থ ব্যবহারের সময় বাড়ানো হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আইটি বিভাগের অনুসন্ধানেও এ জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। তবে কোম্পানির সচিব গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, কোনো অনিয়ম হয়নি। কেবল তহবিল ব্যবহারে বিলম্ব হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, একমি পেস্টিসাইডসের অনিয়ম নতুন কিছু নয়। আগে দুর্বল অনেক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। সব আইপিও তহবিল ব্যবহারের ওপর নতুন করে তদন্ত হওয়া দরকার।

পুঁজিবাজার টাস্কফোর্সের সদস্য আল-আমিনের মতে, ইস্যু ম্যানেজার, অডিট ফার্ম ও নিয়ন্ত্রকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত কোম্পানি ঢুকে পড়েছে। “এখন তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।