শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দীর্ঘ দরপতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সহ বিভিন্ন মহলের একান্ত চেষ্টায় গত দুই মাস ধরে কিছুটা গতি ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজারে। তবে গতি ফিরতে না ফিরতে ফের টানা দরপতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন চলছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়েছে।

এতে সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে প্রায় তিনগুণ কোম্পানি। একই সঙ্গে কমেছে মূল্যসূচক ও লেনদেন। এ সময়ে ডিএসই ও সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। তেমনি কমেছে বাজার মূলধনও।

এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধন কমেছে ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে টানা নয় সপ্তাহ বড়ার পর ডিএসইর বাজার মূলধন কমলো। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯৯টির স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২৭৪টির। এছাড়া ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে যা ছিল ৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এর আগে গত ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদের পর থেকে পুঁজিবাজারে টানা ৮ সপ্তাহ দরপতন হয়। টানা ৮ সপ্তাহের পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে ২৬ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এসময় প্রধান মূল্যসূচক কমে ৫৮২ পয়েন্ট। টানা ৮ সপ্তাহ পতনের পর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। সে থেকে টানা ৯ সপ্তাহ বাজার মূলধন বাড়ে। নয় সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ে ৬৮ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৬৮ হাজার ৯৫ কোটি টাকা বাড়ার পর ডিএসইর বাজার মূলধন ৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা কমলো।

জানা গেছে, আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৭ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন ৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা বা দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে।

সপ্তাহটিতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ১৯৯ কোটি ৫৬ লাখ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকায়। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৬৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সপ্তাহটিতে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৫০ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৬৩ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ৭৩ পয়েন্টে।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সপ্তাহজুড়ে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই (২২০.২৩) পয়েন্ট বা ১.৪৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৭২ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২২ হাজার ৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ২৭ হাজার ২৫১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ১৬০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ৩৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ৩১৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির, দর কমেছে ২০৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির শেয়ার ও ইউনিট দর।