পুনরায় মটর বীমা চালু হলো পলিসি গ্রহণে নেই বাধ্যবাধকতা
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে জনপ্রতি সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিধানসহ নতুন ‘মোটর লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স’ পলিসি পুনরায় চালু করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সার্কুলার নং- নন-লাইফ ১০৫/২০২৫ এর মাধ্যমে নতুন মোটর বীমা পরিকল্পনা ঘোষণা করে আইডিআরএ।
প্রাথমিকভাবে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো পাইলট ভিত্তিতে এক বছরের জন্য এই বীমা পলিসি বিক্রি করতে পারবে। এক বছর পর বীমার পরিসংখ্যান সংস্থা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। তবে বীমা গ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়; ইচ্ছা হলে যানবাহনের জন্য বীমা করা যাবে, নচেৎ করলেও কোনো সমস্যা নেই, জানিয়েছেন আইডিআরএর মিডিয়া ও কমিউনিকেশন পরামর্শক সাইফুন্নাহার সুমি।
২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর আইডিআরএ সার্কুলার নং- নন-লাইফ ৮২/২০২০ এর মাধ্যমে যানবাহনের থার্ড পার্টি বীমা বাতিল করে। এর পেছনে কারণ ছিল ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হওয়ায় মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ বাতিল করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই মোটর বীমা পলিসি ব্যাপকভাবে চালু হলে দেশের নন-লাইফ বীমা খাতে যে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়েছিল তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে এবং ব্যবসার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বীমা পেনিট্রেশন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মোটর বীমার নতুন প্রিমিয়াম হার:
১৫০ সিসির মোটরসাইকেল (দুটি সিট) : ১,০০৬ টাকা
৩৫০ সিসির চার সিট বিশিষ্ট ত্রিচক্রযান : ১,৬৯৬ টাকা
১৩০০ সিসির পাঁচ সিট বিশিষ্ট প্রাইভেট কার : ২,০৭০ টাকা
দুই সিট বিশিষ্ট ৩ টনের ট্রাক : ৩,৬৫১ টাকা
দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের বিধান: যানবাহন দুর্ঘটনায় একজন যাত্রীর মৃত্যু হলে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা এককালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত যাত্রী যদি স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষম হন, জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আংশিক স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
গুরুতর আহত কিন্তু চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা থাকলে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় যানবাহনের ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। পাশাপাশি আদালতের ফি, সালিশ ফি, আইনী প্রতিনিধি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ফি বাবদ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।
এই নতুন মোটর বীমা পলিসি চালু হলে দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং বীমা খাতের ব্যবসা প্রসারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

