শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ব্রোকারেজ হাউস ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের কোনো কর্মপরিকল্পনা (প্ল্যান অব অ্যাকশন) বিবেচনা করবে না বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ কর্মপরিকল্পনাকেও আগের পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি ও অসন্তোষজনক বলে মনে হয়েছে। সম্প্রতি ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে এ অবস্থান জানিয়েছে বিএসইসি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের দাখিল করা কর্মপরিকল্পনা এবং প্রতিষ্ঠানটির আগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছে কমিশন। এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ ডিএসইর মতামতের ভিত্তিতে ক্রেস্টের কর্মপরিকল্পনাকে ‘পুনরাবৃত্তিমূলক ও অসন্তোষজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ পরিশোধের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা ছিল না। এমনকি সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে ডিএসইতেও কোনো অর্থ জমা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর গত ১৪ জুন ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ নতুন কর্মপরিকল্পনা জমা দেয়। তবে বিএসইসির পর্যালোচনায় সেটিতেও আগের পরিকল্পনারই পুনরাবৃত্তি পাওয়া যায়। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের পাওনা কীভাবে, কখন এবং কোন উৎসের অর্থ থেকে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে বাস্তবায়নযোগ্য কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি।

বিএসইসির অবস্থান হলো, শুধু কর্মপরিকল্পনা জমা দিলেই হবে না। আগে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ওই অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করে পাওনা পরিশোধের বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। পাওনা পরিশোধের প্রমাণসহ নতুন কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়া হলে সেটি বিবেচনা করবে কমিশন। ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যোগাযোগের বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের চিঠিতে ডিএসইর ২০২১ সালের ১১ আগস্ট ও ২০২২ সালের ৩ অক্টোবরের দুটি সার্কুলারের উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ট্রেক হোল্ডার কোম্পানির আবেদন সাধারণভাবে ডিএসইর মাধ্যমে কমিশনে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজকে এ-সংক্রান্ত সব চিঠি ডিএসইর মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

২০২০ সালের জুনে করোনা মহামারির সময় পূর্বঘোষণা ছাড়াই ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের প্রধান কার্যালয়সহ শাখাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের শেয়ার ও সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে থাকা অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ ওঠে। এতে প্রায় ২২ হাজার বিনিয়োগকারী সমস্যায় পড়েন। অনেক বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবও ব্লক হয়ে যায়। পরে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী নিপা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও প্রতারণার মামলা করা হয়।

বিএসইসির তদন্তে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারে তথ্য জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ডিএসইর তৎকালীন প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা খায়রুল বাশারকে শেয়ারবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষা ও অনিয়ম প্রতিরোধে বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে আগাম নোটিশ ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শন (স্পট ইন্সপেকশন) চালাচ্ছে বিএসইসি।