আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন রুলস সহজ করা হবে: মাসুদ খান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান মো: মাসুদ খান বলেছেন, তার কমিশন আইপিও বিধিমালা, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা সহজ করবে। অন্যান্য আইনও সহজ ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএসইসি স্মার্ট রেগুলেশন চালু করবে, যেখানে নিয়ন্ত্রণের বাড়াবাড়ি থাকবে না। যেখানে প্রয়োজন কঠোর নিয়ন্ত্রণ করা হবে, বাকী জায়গায় তা সহজ করা হবে। গত শনিবার সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশ এর এক দশক পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশ এর সভাপতি আসিফ খান সিএফএ।
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, দীর্ষস্থানীয় শিল্প ও আর্থিক যাতের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সিএফএ চার্টারহোল্ডার এবং বিনিয়োগ পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা দেশের আর্থিক যাতে নৈতিকতা, শিক্ষা এবং পেশাগত উৎকর্ষতার প্রসারে সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের এক দশকের অবদানকে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। তিনি ‘কনভুসিভ ফিসকাল পলিসি ফর এ বেটার ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট’ শীর্ষক বক্তব্যে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক রাজস্ব ও আর্থিক নীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বাজারে ভাল কোম্পানির তালিকাভুক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলেন, বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বিনিয়োগযোগ্য। তাই বাজারে ভাল কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএসইসি প্রয়োজনে সেলসম্যান এর কাজ করবে।
তিনি সরাসরি তালিকাভুক্তি আইন কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, আমরা সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির পাশাপাশি দেশি লাভজনক কোম্পানির জন্য এটি খুলে দেব, যাতে কারো নতুন মূলধন প্রয়োজন না হলেও বিদ্যমান শেয়ার বিক্রি করে তালিকাভুক্ত হতে পারে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে ইনস্যিটিউট অর্ডার্ড ‘আকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (CAB)-ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট আকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ICMAB)-এর প্রেসিডেন্ট এবং ACCA বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি হেড উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (BMBA)-এর প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (DBA)-এর প্রতিনিধিতাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশ দেশে সিএফএ চাটারহোল্যার নিয়োগ ও পেশাগত উৎকর্ষতা বিকাশে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শীর্ষ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কে সম্মাননা প্রদান করে। স্বীকৃতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, সিটি ব্যাংক পিএলসি, এজ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি, শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও শান্তা সিকিউরিটিজ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, এইচএসবিসি বাংলাদেশ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি।
এছাড়া গত পাঁচ বছরে সিএফএ প্রগ্রাম-এ সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী নিবন্ধনের ভিত্তিতে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো: বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, এফবি.এস-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আইবিএ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। সংগঠনের কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের, দুইজন সোসাইটি মেম্বার কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গত এক দশকে সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশ দেশে CFA ডেজিগনেশনের প্রসার, ধারাবাহিক পেশাগত শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি উদ্যোগ, নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতের পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অনুষ্ঠানে সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও দেশের বিনিয়োগ পেশার উন্নয়ন, পুঁজিবাজারের বিকাশ এবং আর্থিক খাতের টেকসই অগ্রগতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে

