শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: টানা দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার। ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের পতন হলেও বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে পার করছে। মাঝে মধ্যে সূচকের কিছুটা উত্থান দেখা মিললেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দরপতনের কবলে পড়ছে পুঁজিবাজার।

তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এর ওপর ভর করে কিছুটা গতি ফিরেছিল দেশের পুঁজিবাজারে। তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটায় এখন বাজারে দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র। ফলে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ১০৪ পয়েন্টের কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট তীব্র হচ্ছে। আবারও পুঁজি হারানোর আতঙ্ক পেয়ে বসেছে বিনিয়োগকারীদের।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ কোম্পানি। ফলে লেনদেনের শুরুর দিকেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। অবশ্য লেনদেন চলাকালে বেশ কয়েকবার সূচক ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এমনকি লেনদেনের তিন ঘণ্টার মাথায় ডিএসইর প্রধান সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এতে বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এমন প্রত্যাশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা।

কিন্তু শেষ এক ঘণ্টার লেনদেনে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ান। ফলে দাম বাড়ার তালিকা থেকে বেশকিছু কোম্পানি দাম কমার তালিকায় চলে আসে। বিশেষ করে বড় মূলধনের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যায়। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় থাকার পরও সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী মাহামুদুল আলম ফেরদৌস বলেন, ডিএসই অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।

দেখা যাচ্ছে কোনো বিনিয়োগকারী যদি বড় একটি ক্রয়াদেশ দেয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এর কারণ জানতে চাওয়া হয়। যদি বার বার হাউসে ফোন করে কারণ জানতে চায়। তা হলে এখনো কেউ বিনিয়োগ করবে না। বাজারে বিনিয়োগ করতে গিয়ে যদি আতঙ্ক বোধ করে তাহলে কেন বিনিয়োগ করবে? পুঁজিবাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করবে। মানুষ আস্থা পাবে না বলে তিনি মনে করেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারকে সংস্কার ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বাজারকে স্থিতিশীল করতে হবে। প্রথমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে পরবর্তী সময়ে সেই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং বাজারকে আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। এর ফলে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনেও গতি ফিরবে। অন্যদিকে বাজার স্থিতিশীল না করে শুধু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিলে তার সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

তাদের অভিযোগ, বর্তমানে একটি চক্র কৃত্রিমভাবে বাজারে সংকট তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। এসব গুজব ও কারসাজির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বা প্যানিক সৃষ্টি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। এর ফলেই ধারাবাহিকভাবে বাজারে পতন হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। এ চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তা না হলে বাজারে টেকসই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না বলেও তারা মনে করছেন।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৩৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৫ টির, দর কমেছে ১৫০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭২ টির। ডিএসইতে ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৯০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৬৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৫৩ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৩ টির এবং ২৫ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।