শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও অস্থিরতা নিরসনে ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিএসই চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারকে নতুন উচ্চতায় নেওয়াসহ আরও নানান বিষয় তুলে ধরেন। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বাজারে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইপিও ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোকে ডিএসইর অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন আইপিও না আসা এবং ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজের সীমিত উপস্থিতি বাজারের অন্যতম দুর্বলতা।

এ পরিস্থিতিতে নতুন বন্ডের লিস্টিং ফি কমানো হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আইপিও বা সরাসরি লিস্টিংয়ের আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের লিস্টিং ফির ৫০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ নিয়ন্ত্রক বিষয়ক বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না। বরং নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। নির্দিষ্ট অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই তদন্ত বা অনুসন্ধান করা হবে।

সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিসি অ্যাকাউন্ট, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে হবে। এ ধরনের ঘাটতি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নয়, পুরো বাজারের ইকোসিস্টেমের সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হলে সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা, উদ্বেগ, পরামর্শ ও নতুন ধারণা ডিএসইর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতেই বাজারের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে চায় ডিএসই।

২০২৫ সালের কমপ্লায়েন্স ও সার্ভেইল্যান্স সংক্রান্ত কিছু ইন্সপেকশন কার্যক্রম অমীমাংসিত ছিল। যেগুলো বিএসইসিতে রিপোর্ট দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ওই ইন্সপেকশনগুলো সম্পন্ন করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে এসব ইন্সপেকশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।