দুই মাসে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাবে কমিশন, আস্থা বাড়লে লেনদেনও বাড়বে
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত আস্থা সংকটে কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার। ফলে বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এ অবস্থায় সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন বেড়েছে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুল চ্যালেঞ্জ।
এদিকে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের দুর্বলতা দূর করতে একাধিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেই কমিশনের কেটেছে ছয় মাস। ফলে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানোই এখন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ৬ মাস অতিবাহিত হতে চললেও বাজারে স্থিতিশীলতা আসেনি। তাই যে কোন মূল্যে পুঁজিবাজারে আস্থা সংকট কাটলেই হু হু করে বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাজার ভাল হবে এমন প্রত্যাশা ছিলো লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে বিশাল ফারাক। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হচ্ছে না। যার ফলে আস্থা সংকটে কাটছে না পুঁজিবাজারে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট দূরীকরণের সুশাসনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।
ডিবিএর আলোচনা সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো হবে। তেমনি আগামী দু-তিন মাসে আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে, যার মধ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট অনেকটা দূর হবে। আপনারা আস্থা রাখুন।
জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬৩৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৩০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১২২ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৮ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩০০ টির, দর কমেছে ৫০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮ টির। ডিএসইতে ৫৯৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১১৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৭৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৩০ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১০৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৮ টির এবং ১৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৫১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

