পুঁজিবাজারে নীরব ‘রক্তক্ষরণ’, আগস্টে ডিএসইর সূচক উধাও ৩০৫ পয়েন্ট
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: আগস্ট মাসে টানা দরপতনের মধ্যে থাকলো পুঁজিবাজার। বাজারের এই পরিস্থিতিকে নীরব ‘রক্তক্ষরণ’র সঙ্গে তুলনা করছে বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছেন, পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করা পুঁজি হারাচ্ছেন এবং তাদের নীরব রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পুঁজি হারানোর দুশ্চিন্তায় তারা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। ফলে সংসারেও অশান্তি দেখা দিচ্ছে।
মুলত আগস্ট মাসে ডিএসইর ৩০৫ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই সূচক ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী ছিল। ১১ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ৯০৩ পয়েন্টের ওপরে থাকলেও ৩১ আগস্ট এসে দাঁিড়য়েছে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্ট। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে অনেকেই অপেক্ষার কৌশল নিচ্ছেন। ফলে বাজারে ক্রয়চাপের তুলনায় বিক্রির চাপ বাড়ছে এবং লেনদেনও কাঙ্খিত গতি পাচ্ছে না।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টানা দরপতনের কারণে পুঁজিবাজারে এক ধরনের নীরব ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না বলে মনে করছেন তারা। কারণ পুঁজিবাজার সম্পর্কে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অযোগ্যতা কিংবা অজ্ঞতার কারণেই বর্তমান বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১২৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১৩ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৮ টির, দর কমেছে ১৯২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৯ টির।ডিএসইতে ৪৭৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৩ টির এবং ২৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

