শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিল খুঁজে পেয়েছে নিরীক্ষক। তেমনি কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয়, বিনিয়োগ, মুনাফা, রিজার্ভ ও দাবি পরিশোধের হার নিম্নমুখী। অর্থাৎ কোন সূচকেই কোম্পানিটির ভালো পারফর্মেন্স নেই। কোম্পানিটির এই অবস্থা চলছে গত তিন বছর ধরে।

২০২২ সালে বীমা কোম্পানিটির মোট প্রিমিয়াম আয় ছিল ১১৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। পরবর্তী দুই বছরে তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ৭ লাখ টাকায়। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় কমেছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বা ২০.৭০ শতাংশ।

গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট অবনতি দেখা গেছে। ২০২২ সালে কোম্পানিটির মোট বীমা দাবি ছিল ৩৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালে এসে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়। এতে দাবি পরিশোধের হার কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গ্রাহক আস্থার জন্য নেতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ফলে বীমা খাতের এই কোম্পানিটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

কোম্পানি সূত্র জানায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের হাতে থাকা নগদ ও নগদ সমতুল্য (ক্যাশ অ্যান্ড ক্যাশ ইকুইভ্যালেন্টস) অর্থের হিসাবে গরমিল খুঁজে পেয়েছে নিরীক্ষক কে. এম. আলম অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টস। নিরীক্ষককে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স জানিয়েছে, ব্যাংকে নগদ আকারে পাঁচ কোটি সাত লাখ ৫৭ হাজার ৩১৫ টাকা এবং ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) হিসেবে ৪১ কোটি ২৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯৮৫ টাকা কোম্পানির রয়েছে।

কিন্তু নিরীক্ষক খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ব্যাংকে নগদ আকারে মাত্র ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯ টাকা এবং এফডিআর হিসেবে মাত্র তিন কোটি ৭০ লাখ তিন হাজার ৭৩১ টাকা ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের রয়েছে। অর্থাৎ নগদ আকারে চার কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ৬৪৬ টাকা ও এফডিআর বাবদ ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৪ টাকার বেশি হিসাব দেখিয়েছে নিরীক্ষককে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, অর্থের গরমিল দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করে থাকতে পারে কোম্পানিটি। এজন্য দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বিমা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এছাড়াও যেকোনো কোম্পানির আলাদা ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স সেই রুলস ভঙ্গ করেছে।

নিরীক্ষক জানিয়েছে, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স প্রভিশন হিসাবে দুই কোটি ৭৩ লাখ ৪১ হাজার ১৬৭ টাকার একটি নন-ফান্ডেড গ্র্যাচুইটি অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কোনো পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ করে না।

এদিকে, কোম্পানিটি থেকে মালিকানা উঠিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই, ২০২৬) ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সে তাদের মালিকানা কমেছে ৮ শতাংশ। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ছিল ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ৩১ জুলাই তা এসে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

মুলত ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ৮৩ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ২৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৪১ দশমিক ১১ শতাংশ।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের সামগ্রিক বিষয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে খুব শিগগিরই।