স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা ও সুশাসনসংকট এবং বিনিয়োগকারীদের হতাশার মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের হাল ধরলেন নতুন চেয়ারম্যান। দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সামনে সহজ কোনো পথ নেই। বরং পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং একটি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলার জন্য কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া এক বার্তায় মাসুদ খান বলেছেন, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ যেমন সম্মানের, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বড় দায়িত্ব ও কঠিন চ্যালেঞ্জ।

ফলে যে কোন মূল্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করে একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত, প্রাণবন্ত ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পুঁজিবাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান লিখেছেন, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে, বাজারকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সহজ কাজ নয়। আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত মোটেই সহজ ছিল না। অতীতের চেয়ারম্যান ও কমিশনগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এই দায়িত্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নের প্রচেষ্টার সঙ্গে নানা ধরনের ঝুঁকি জড়িত।

মাসুদ খান জানান, আমাদের কাজ শুধু বাজারকে পুনরুদ্ধার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে, ভালো ও মানসম্পন্ন কোম্পানিকে বাজারে আনতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে, সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার করতে হবে, ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে হবে, বিনিয়োগকারী শিক্ষা বাড়াতে হবে এবং বাজারের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ এবং যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়মকানুন সহজ করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আমার মূল নীতি হবে ‘যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়ন্ত্রণ, আর যেখানে সম্ভব সেখানে সরলীকরণ।

তিনি বলেছেন, আমি এটাও বিশ্বাস করি যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একা সফল হতে পারে না। আপনাদের মতামত, পরামর্শ এবং গঠনমূলক সমালোচনা আমি মনোযোগ দিয়ে শুনব এবং সর্বদা শেয়ারবাজার, বিনিয়োগকারী এবং বৃহত্তর অর্থনীতির সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করব। আমাদের সামনে যে কাজ রয়েছে তা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নীতিনির্ধারক, পেশাজীবী সংগঠন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা, সমর্থন ও শুভকামনা নিয়ে আমরা অবশ্যই বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারব এবং একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত, প্রাণবন্ত ও স্থিতিশীল শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে সক্ষম হব। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কশিনার মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।

ওইদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ খান ও কমিশনার হিসেবে ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের এমডি মো. নাফিজ আল তারিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব ও আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। একই দিনে তারা বিএসইসিতে যোগদান করেন এবং পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে রোডম্যাপ তুলে ধরেন।