শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে বীমা খাত বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বললেন, বীমা খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে পুঁজিবাজার, বন্ড ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় উৎস তৈরি হবে।

আজ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও প্রতারণা সতর্কতা’।

মীর নাদিয়া নিভিন বললেন, পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটের গভীরতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। বিশ্বের পরিণত অর্থনীতিগুলোতে এ ভূমিকা মূলত বীমা কোম্পানিগুলো পালন করে। জীবন বীমার দীর্ঘমেয়াদি দায়ের বিপরীতে বীমা কোম্পানিগুলো সরকারি বন্ড, করপোরেট ঋণ, অবকাঠামো ও শেয়ারে বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের জোগান দিতে পারে।

বাংলাদেশের বীমা খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে জিডিপির তুলনায় বীমা খাতের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ হার ৩ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে বিনিয়োগের তহবিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ অর্থ শেয়ারবাজার ও বন্ডের পাশাপাশি অবকাঠামো খাতেও বিনিয়োগ করা সম্ভব।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বীমা খাত বাংলাদেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নের জন্য কোনো প্রান্তিক বিষয় নয়; বরং এটি সেই অনুপস্থিত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শ্রেণী, যা আমাদের পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাইক্লোন, বন্যা ও কৃষি খাতের দুর্যোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। এসব ঝুঁকি বীমার আওতায় আনা গেলে সরকারের বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো সম্ভব।

মীর নাদিয়া নিভিন জানান, পলিসি হোল্ডারদের আস্থা ফেরাতে ঝুঁকিভিত্তিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি বীমা বিনিয়োগের প্রবিধান আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বীমা খাতকে করপোরেট বন্ড, অবকাঠামো ঋণ ও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিনিয়োগ উপকরণের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।