শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সরকারের মধ্যমেয়াদি অর্থনীতির রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতিকৌশল বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে। এক্ষেত্রে প্রথম ধাপ অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, যা এক বছর মেয়াদি। দ্বিতীয় ধাপ অর্থনীতির উত্তরণ, যা বর্তমান সরকারের এক থেকে তিন বছর মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং তৃতীয় ধাপ সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণ, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে করা হবে সম্পন্ন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় এ নীতিকৌশলে রূপরেখা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বাজেট বক্তব্যে জানিয়েছেন, এ কাঠামোর আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতিকৌশল বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে। এক্ষেত্রে প্রথম ধাপ অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, যা এক বছর মেয়াদি। দ্বিতীয় ধাপ অর্থনীতির উত্তরণ, যা বর্তমান সরকারের এক থেকে তিন বছর মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং তৃতীয় ধাপ সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণ, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে করা হবে সম্পন্ন
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট ও অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ এবং তার অর্থায়নের জন্য বিপুল পরিমাণে ঋণ নেওয়ায় আমাদের ‘ডেট এস্টাবিলিটি’ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আমরা বর্তমান ‘মধ্যম’ মানের ঝুঁকি থেকে ‘নিম্ন’ ঝুঁকির ঋণমানে ফিরে আসতে চাই। তাই রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি একটি সহনীয় পর্যায়ে রেখে ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাই। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ হ্রাস, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহি জোরদার করা হচ্ছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনঃমূলধনিকরণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনিকরণের জন্য চলতি অর্থবছর সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। তিনি জানালেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ব্যাংক পুনর্গঠনের। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায় বন্ধ করা হয়েছে রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ। এটিকে পারিবারিক প্রভাবমুক্ত করার জন্য আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করায় জোর দেওয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, খেয়াল রাখা হবে সেদিকেও।

রাজস্ব ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা হবে এবং কর ব্যবস্থায় জনগণের হয়রানি নিরসন করে ফিরিয়ে আনা হবে আস্থা।