পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে সরকারের নীতিগত সহায়তার আশ্বাস
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারকে একটি মজবুত ও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর লক্ষ্য নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গত রোববার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি। পরিদর্শনকালে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বাজার সংস্কার ও উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
গত ২ এপ্রিল গুরুত্বপূর্ণ এই পদে আসীন হওয়ার পর বিএসইসি কার্যালয়ে এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশেষ সহকারীর এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের কাছে শেয়ারবাজার যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে এবং এর গতিবিধির ওপর যে কড়া নজরদারি রয়েছে, সেই বিষয়টিই এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, তানভীর গনি কমিশনের কার্যালয়ে উপস্থিত হলে তাঁকে স্বাগত জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ অন্যান্য কমিশনারগণ। বৈঠকের শুরুতেই তিনি বর্তমান বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি, বিদ্যমান সংকট এবং উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এসময় বিএসইসির পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তাঁর সামনে তুলে ধরা হয়।
সুদীর্ঘ তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে বাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কারসাজি রোধ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাজারের গভীরতা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাজার বিকাশে সরকারের ধারাবাহিক সমর্থনের কথা পুনরায় নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে তানভীর গনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আগ্রহী। সভায় তিনি একটি টেকসই বাজার কাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তায় কমিশনের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর খোঁজ নেন। আগামী দিনে বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্টক মার্কেট সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, সরকারের এই সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তদারকি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যদি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই প্রতিশ্রুতিগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে বাজার খুব দ্রুতই একটি স্থিতিশীল ও লাভজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া বিএনপির ইশতেহারে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে শেয়ারবাজার সংস্কারের একটি বিস্তৃত রূপরেখা প্রদান করা হয়েছিল।
সেই ইশতেহারে কমিশনের স্বায়ত্তশাসন, পৃথক সংস্কার কমিশন গঠন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গড়ে তোলা এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধাসহ ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মতো আধুনিক পদক্ষেপগুলোর প্রতিশ্রুতি ছিল।

