Deshprothikhon-adv

তিন ইস্যুতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার আভাস!

0

মোবারক হোসেন, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে অস্থিরতা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করছে। তেমনি বাড়ছে লেনদেন। আর লেনদেন বাড়াকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আলোচনার শেষ নেই। বিনিয়োগকারীরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করছে। তেমনি বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগমুখী হওয়ার চিন্তা ভাবনা শুরু করছেন।

সরকারের নীতি নির্ধারকসহ সব মহলে আন্তরিকতার ফলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীলতার আভাস ছিল। তবে বাজারের এ আভাসে পুরোপুরি আতঙ্ক না কাটলেও অস্থিরতা নেই বিনিয়োগকারীদের। কারন দীর্ঘ দিন পর বাজার কিছুটা স্থিতিশীলতার আভাসে বিনিয়োগকারীদের মাঝে স্বস্তির নি:শ্বাস ফিরে এসেছে।

অনেকদিন পর পুঁজিবাজারে গতিশীলতার কিছুটা আভাস দেখা দিয়েছে। গত কিছুদিন ধরেই লেনদেনে একটু উর্ধমুখী ধারা দেখা যাচ্ছিল। মাঝে মধ্যে সুচকের কারেকশন হলেও এটা স্থিতিশীল বাজারের লক্ষন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তবে অতীতের সব ধকল কাটিয়ে ওঠছে দেশের পুঁজিবাজার। ২০১০ সালের ধস পরবর্তী টানা মন্দায় বিনিয়োগকারীরা যখন বাজারের ওপর পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং বাজারের সূচক ও লেনদেন তলানীতে এসে ঠেকেছিল তখনই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয়ে ওঠেন সরকারসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারনী মহল।

এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মাঠে নেমে পড়েন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থমন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কর্তা-ব্যক্তিদের আন্তরিক প্রচেষ্টার বলেই চলতি বছরের শুরু থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু দিনের মধ্যে আবার আগের ধারায় ফিরে আসে। তবে ইদ পরবর্তী বাজেট বক্তৃতায় পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় আবারও প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ে আবারও আশার আলো ফুটে ওঠে।

সেই সুবাদে প্রতিদিনই বাড়ছে সূচক ও গড় লেনদেনের পরিমাণ। এতে প্রায় সবশ্রেনীর বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে প্রবেশ করছেন। কাংখিত লক্ষ্য থেকেও খুব বেশি দূরে নেই দেশের পুঁজিবাজার। এরপরই বাস্তব হতে যাচ্ছে তাদের স্বপ্ন, যারা সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের ঘরে দেখতে চেয়েছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট, চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি থাকায় ২০১০ সালের পর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুঁজিবাজার। কিন্তু সাম্প্রতিক সমময়ে অব্যাহত উত্থান রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছে পুঁজিবাজার। দর পতনের বাজারের যখন সার্বিক মূল্য সূচক ৫ হাজার পয়েন্ট হওয়া নিয়েই সন্দেহে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা, সেখানে আজ ৬ হাজার পয়েন্টের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত কয়েক বছরে পুঁজিবাজারে যে সংস্কার করা হয়েছে এর মাধ্যমে বাজারের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। আর সেটাকে কেন্দ্র করে আগামি দিনগুলোতে বাজারের আরও উন্নয়ন ঘটবে। যার প্রভাবে প্রতিদিনই বাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। তারা আরও বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে বাজার ভালো অবস্থায় রয়েছে। ক্ষুদ্র, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করছে। এভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরই সূচক ৬ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করবে। পাশাপাশি দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেনও হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু লোকসানি ও স্বল্পমূলধনী কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বাড়ায় উৎকন্ঠাও প্রকাশ করেন তারা।

বিএসইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ৬ বছর পর পুঁজিবাজার একটা ভালো অবস্থানে এসেছে। আমরা সবাই কমপ্লায়েন্স পরিপালনের মধ্য দিয়ে এই অবস্থানটা ধরে রাখতে চাই। কোনো রকম নন-কমপ্লায়েন্স করে যেন বাজারটাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করি- সেই বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে সতর্কতার সাথে লেনদেনের অনুরোধ জানিয়েছি।

এদিকে ঈদের আগের বাজার এবং ঈদ পরবর্তী বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ভাবতে শুরু করছে। বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আস্থা ফিরে পেলে নতুন করে বিনিয়োগ শুর করছেন।  তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিয়োগকারীদের আস্থার ফল হিসেবে এই ঘুরে দাঁড়ানো বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে সংশয়ও রয়েছে। কারণ গত প্রায় ছয় বছর ধরে বহুবার এভাবে স্থিতিশীলতার আভাস পাওয়া গেছে। কিন্তু কোনো বারই স্থায়ীভাবে স্থিতিশীলতার দিকে যায়নি বাজার পরিস্থিতি। তারপরও বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল বাজারের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন প্রায় ৬ বছর।

অন্যদিকে ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে নানামুখী তৎপরতা আর সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমান বাজারের পরিস্থিত উন্নয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শে ঊর্ধ্বমূখী ধারায় ফিরেছে পুঁজিবাজার। তেমনি ইতিবাচক অর্থনীতির ঊর্ধ্বগতির ফলে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। তাই বর্তমান বাজার পাঁচ ইস্যুতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার আভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি লেনেদেন বাড়ার পুর্বাভাস দেখা যাচ্ছে।

প্রথমত, দেশের পুঁজিবাজারে স্থি’তিশীলতার আভাস মিলছে। বিনিয়োগ সমন্বয় জটিলতা কেটে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে দেশে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।

ফলে তারা শেয়ার বিক্রির চেয়ে কেনায় মনোযোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশে জ্বালানি-বিদ্যুৎ, টেলিকম খাতের পাশভপাশি পুঁজিবাজারেও বেড়েছে বিদেশি বিনিয়োগ।

গত অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট ২৬৫ কোটি (২.৬৫ বিলিয়ন) ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে বাংলাদেশ, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। এই ১১ মাসে পুঁজিাবাজারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৪৭৯ শতাংশের মতো।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকেই কারণ মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ৩০ জুন ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষ হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার মে মাস পর্যন্ত এফডিআইর তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত জুলাই-মে সময়ে ২৬৫ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে নিট এফডিআইর পরিমাণ হচ্ছে ১৬২ কোটি ৫০ লাখ (১.৬২ বিলিয়ন) ডলার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ২৩৩ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছিল। আর এই সময়ে নিট এফডিআইর পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এই ১১ মাসে মোট এফডিআই বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর নিট এফডিআই বেড়েছে ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

গত ২৮ জুন বাজেট নিয়ে সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, “মূলত দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকা, নীতি কৌশলগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা ও এগুলোর সুসমন্বিত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অব্যাহত সরকারি উদ্যোগ ইত্যাদির প্রভাবে ব্যবসায়ী/বিনিয়োগকারীসহ সকল স্তরের জনগণ দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ক্রমেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন যা ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথকে প্রশস্ত করেছে। “তারই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিদেশি বিনিয়োগে।”

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ওই ১১ মাসে ৩২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এই ১১ মাসে পুঁজিবাজারে নিট এফডিআই বেড়েছে ৪৭৯ শতাংশ।

বিভিন্ন খাতে মোট যে এফডিআই আসে, তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থকে নিট এফডিআই বলা হয়। গত কিছু দিন ধরে পুঁজিবাজার দর বাড়ছে। এজন্য নতুন বিনিয়োগ পাওয়াকে কারণ দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরাও।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, “বাজেটের পর থেকে পুঁজিবাজারে অনেক ফান্ডে এসেছে।”

দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিদেশি বিভিন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারের প্রতি নজর ছিল। তারা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের চিন্তাভাবনা করছেন। গত কয়েক মাস ধরেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বেচার চেয়ে কেনায় মনোযোগী ছিলেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং স্টক এক্সচেঞ্জের নেওয়া উদ্যোগেই বিদেশি বিনিয়োগে বেড়েছে। পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এটি বাজারের জন্য শুভ লক্ষণ। ইতোমধ্যে বিদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ডিএসইর স্ট্রাটেজিক পার্টনার হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দ্বিতীয়ত, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৩ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছেন আইসিবির সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইফতেখার উজ জামান।

বাজার উন্নয়নে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আইসিবি বিনিয়োগ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে পুঁজিবাজারে উত্থান এসেছে বলে তিনি জানান।

আইসিবির প্রধান লক্ষ্য শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সহায়তা করা জানিয়ে তিনি বলেন, আইসিবি নতুন বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। যে কারণে শেয়ারবাজার শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বা ৭৩ শতাংশ বেশি বিনিয়োগ করেছে আইসিবি। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্টানটির শেয়ারবাজারে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এদিকে শেয়ারবাজারে ভর করে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আইসিবির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২৫৪ শতাংশ বেড়েছে।

জুলাই’১৬ থেকে মার্চ’১৭ পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) এককভাবে হয়েছে ৪.৩৩ টাকা এবং সমন্বিত ৫.৬৭ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে এককভাবে ইপিএস ছিল ১.০৩ টাকা এবং সমন্বিত ইপিএস ১.৬০ টাকা। দেখা যাচ্ছে আলোচিত সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস এককভাবে ৩২০ শতাংশ এবং সমন্বিত ২৫৪ শতাংশ বেড়েছে।

উল্লেখ্য, আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন কামাল হোসেন গাজী। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে এবং ১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

এ জানতে চাইলে ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক মো. রকিবুর রহমান  বলেন, বাজার এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এটা আরও তরান্বিত হবে। বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারী তখনই আসে যখন দেখে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। তারা দেখে কারা বাজারে লেনদেন করছে। আমি মনে করি, পুঁজিবাজার এখান থেকে ধীরে ধীরে ভালো অবস্থানে যাবে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মোঃ ছায়েদুর রহমান বলেন, বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার মতো কোনো কারণ এখন নেই; বরং এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি উজ্জল। আমার বিশ্বাস, বাজার এখান থেকে এগিয়ে যাবে। বিনিয়োগকারীর আস্থা আরও বাড়বে। তাতে বাজার গতিশীল হবে।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সূচক ও লেনদেন বেশ বেড়েছে। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক। সম্প্রতি বাজারে লেনদেন অনেক বিনিয়োগকারীকে আশাবাদী করেছে বলে মনে করেন তিনি।

তৃতীয়ত, বিশেষ করে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করছে। এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপের কার্যক্রম শুরু হতে চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী  বলেন, কিছু নতুন বিদেশি ফান্ড পুঁজিবাজারে এসেছে। স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে নানামুখি তৎপরতা আর সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমান বাজারের পরিস্থিত উন্নয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

আশা করি দ্রুত বাজার পরিস্থিতি আরো ঘুরে দাঁড়াবো। এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আশা করি দ্রুত লেনদেন আরো বাড়বে। এছাড়া বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা যে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বেশি মুনাফা পাবেন সাধারণত সে খাতেই বিনিয়োগ করে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, জনসাধারনের কাছে কিছুদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে যে সরকার পুঁজিবাজারের ব্যাপারে আন্তরিক এবং কাজ করছে। তিনি মনে করেন, ব্যাংক ও সঞ্চয় পত্রের সুদহার কমানোর ফলে সেখান থেকে যদি ৫% টাকাও পুঁজিবাজারে আসে তাহলে আমাদের পুঁজিবাজারের চেহারাই পাল্টে যাবে।

Comments are closed.