Deshprothikhon-adv

পুঁজিবাজারের প্রণোদনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে

0

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পেশকৃত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের মানুষ তারা একটা উন্নত ও সুন্দর জীবন চায়। আমরা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ গড়ব। আপনাদের সবাইকে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করলাম।

শনিবার (২৯ জুন) দুপুরে একাদশ জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার ওপর সমাপনী বক্তৃতায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অর্থমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সংসদে তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন। বাজেট বক্তৃতা পড়ে দেওয়ার পর অর্থমন্ত্রীর পক্ষে অর্থবিলও সংসদে উত্থাপন করলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

“একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন বিকশিত একটি পুঁজিবাজার। এই বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য অনেক প্রণোদনা থাকছে। এই সব প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ হবে। এভাবে পুঁজিবাজার তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে বলে আমি আশা করি।” শনিবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার যে প্রস্তাব বাজেটে করা হয়েছে, তা যুগোপযোগী। ব্যাংক ঋণের সুদ এক অংকে নামিয়ে আনতে হবে। সুদ বেশি থাকলে ব্যবসা বাণিজ্য বিকশিত হয় না। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও আমাদের দেখতে হবে।

খেলাপি ঋণ হ্রাসের জন্য অর্থমন্ত্রী যেই উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন তা অত্যন্ত সময় উপযোগী। পাশাপাশি আমার সুপারিশ থাকবে যেন ব্যাংক ঋণের উপর সুদের হার এক অংকের মধ্যে রাখা হয় অর্থাৎ সিঙ্গেল ডিজিট। এটি করা গেলে শিল্প ও ব্যবসা খাতকে প্রতিযোগিতা সক্ষম করে গড়ে তোলা সক্ষম হবে। কারণ উচ্চহারে সুদ থাকলে কোনো ইন্ডাস্ট্রি বিকশিত হবে না। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও সুষম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রূপকল্প ২০২১ সফলভাবে বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছি। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এসডিজি উন্নয়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং আমাদের দেওয়া নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার পূরণের এক কার্যকর মাধ্যম হবে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পেশকৃত জনবান্ধব উন্নয়নমুখী, ও সুষম এ বাজেটটি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বাজেট আলোচনায় অনেক সদস্যরা অনেক কথা বলেছেন, সেগুলো সব আমার কাছে ছিল। আমি মনে করি, আমার বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের সেই কথাগুলো এবং তার জবাব তারা মোটামুটিভাবে পেয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বাজেট পেশ করলাম। এটা আমাদের প্রথম বাজেট। এই বাজেট আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের একটি ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, এটাই আমাদের প্রত্যয়। এই বাজেই এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তিনি এখনও অসুস্থ। কারণ তার ডেঙ্গু হয়েছে, খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না, তবুও তিনি কষ্ট করে এসেছেন। এবারে যেহেতু ঈদ পড়ে গিয়েছিল। কাজেই জুন মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার অর্থ্যাৎ ১৩ জুন আমরা বাজেট পেশ করেছি। ১৩ জুন থেকে আজকে ২৯ জুন। এই অল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রেখে একটা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশের মানুষ তারা একটা উন্নত জীবন চায়। সুন্দর জীবন চায়। তাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ, আমরা গড়ব। আপনাদের সবাইকে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও বাজেট বক্ততায় প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা পুর্ণব্যক্ত করেন সংসদ নেতা।
তিনি বলেন, তারুণ্যের শক্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ এরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য নানা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির কথা এই বাজেটে বলা হয়েছে, সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন সরকারের সময় বাজেটের বিশাল অংশটিই ছিল বৈদেশিক অনুদান নির্ভর। আমরা সরকার গঠনের পর সেই নির্ভরতা কমিয়ে এনেছি। আমরা আয় বুঝে ব্যয়ের যে বিষয়টি বলা হয়েছে, সেটি বিবেচনা করেই বাজেট দিই। দেশকে আমরা উন্নতির দিকে নিয়ে আসতে পেরেছি বলেই আজকে বাজেটে বৈদেশিক অনুদান শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

আমরা গত ১০ বছরে মাথা পিছু আয় ১ হাজার ৯৯৯ ডলারে উন্নত করেছি। দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এই হার অন্তত ১৬ শতাংশে নামিয়ে আনবো- এটা আমাদের লক্ষ্য। প্রবৃদ্ধি যখন উচ্চ আর মুদ্রাস্ফীতি যখন নিম্ন থাকে তখন এর সুফল দেশের মানুষ পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটে ঘাটতি সহনশীল। বাজেটে ঘাটতি কখনও বেশি হয় না। মাত্র ৫ শতাংশ ঘাটতি হয়। আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০২৩-২৪ সালে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করা, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৫০ ডলারে উন্নীত করা, অতি দরিদ্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার যে প্রস্তাব বাজেটে করা হয়েছে, তা যুগোপযোগী। ব্যাংক ঋণের সুদ এক অংকে নামিয়ে আনতে হবে। সুদ বেশি থাকলে ব্যবসা বাণিজ্য বিকশিত হয় না। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও আমাদের দেখতে হবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপণী আলোচনায় বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

Comments are closed.