পুঁজিবাজারে যোগসাজশের বাজে খেলা চলছে

   অক্টোবর ২৭, ২০১৮

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে আবারও বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। তাতে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স নেমে আসে ৫ হাজার ২৫২ পয়েন্টে। কেন এ হঠাৎ দরপতন? এ নিয়ে কথা হয় শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

প্রথম আলো: প্রথমেই শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই। এই যে হঠাৎ বড় ধরনের দরপতন, আবার ঘুরে দাঁড়ানো— ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে বলে মনে করেন?

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: শেয়ারবাজারের মৌলভিত্তির বিষয়টি যদি আমরা বিবেচনায় নিই, তাহলে বাজারের উত্থান বা পতনের পেছনে যৌক্তিক কারণ থাকে। এসব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কারণ যেমন থাকে, তেমনি থাকে রাজনৈতিক কারণও। কিন্তু আমাদের বাজারে আমরা সাম্প্রতিক যে দরপতন দেখলাম, তার জন্য মৌলভিত্তির পরিবর্তনজনিত যৌক্তিক কোনো সম্পর্কই খুঁজে পেলাম না।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়া যখন ভালো-মন্দনির্বিশেষে সব শেয়ারের দাম কমে এবং সূচকের উল্লেখযোগ্য পতন ঘটে, তখন বুঝতে হবে বাজারে ফাউল প্লে বা বাজে খেলা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে বাজারে হঠাৎ করে যে দরপতন হলো, সেটির পেছনে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক কোনো কারণই ছিল না। আমার মতে, এ পতনটি ছিল পুরোপুরি উদ্দেশ্যমূলক।

প্রথম আলো: সাম্প্রতিক দরপতনের জন্য অনেকেই তো নির্বাচনকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। আপনি কি সেই দাবির সঙ্গে একমত?

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: এ বছরের শেষ দিকে নির্বাচন হবে, এটি তো হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত না। অনেক আগে থেকে আমরা বিষয়টি জানি এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, এটিও কারও অজানা নয়। তাহলে রাতারাতি নির্বাচন ঘিরে বাজারে দরপতন হবে কেন? বরং আমার মনে হয় বড় বড় কিছু বিনিয়োগকারী হঠাৎ করে বাজারে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের দরপতন ঘটেছে। এর মধ্যে ব্যক্তি শ্রেণির বড় বিনিয়োগকারী যেমন আছেন, তেমনি আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও।

ডিএসইর সদস্যদের কিছু অর্থ বাজারে ঢুকবে, আবার বন্ড বিক্রি করে আইসিবিও কিছু টাকা বাজারে বিনিয়োগ করবে। বাজারে যাঁরা বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন, স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা চান যতটা সম্ভব কম দামে শেয়ার কিনতে। তাই দরপতন ঘটলে তাঁদেরই লাভ। তাঁরা কম দামে শেয়ার কিনতে পারবেন। তাই সাম্প্রতিক এ দরপতনের পেছনে বড় বিনিয়োগের একধরনের যোগসূত্র আছে বলে আমার কাছে মনে হয়।

প্রথম আলো: তার মানে আপনি বলতে চাইছেন, কারসাজির মাধ্যমে বাজারে দরপতন ঘটানো হয়েছে?

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: না, এটিকে আমি কারসাজি বলছি না। অর্থনীতির ভাষায় এটিকে বলা যায় যোগসাজশ। অনেকে একসঙ্গে মিলে একই ধরনের আচরণ করার ফলে যে প্রভাব পড়ে, সেটিকে যোগসাজশের প্রভাব বলা হয়। আমাদের বাজারের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, বড় বড় বিনিয়োগকারীদের অনেকে একসঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।

তাতে বাজারে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এতে শেয়ারের দাম কমতে থাকে। আর দাম যখন কমতে থাকে, তখন নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা তা থেকে সুবিধা নিতে চান, অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করতে থাকেন। একপর্যায়ে গিয়ে দাম অনেক কমে গেলে বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে শুরু করেন। তখনই দেখা যায় বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। এটি যোগসাজশের একটি বাজে খেলা।

প্রথম আলো: সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শেয়ারের দামের অস্বাভাবিক উত্থান ঘটেছে। এটিও যোগসাজশের ফল, নাকি কারসাজি?
মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা অবশ্যই কারসাজি। কারণ, এসব শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ ছিল না। কারসাজির মাধ্যমেই এগুলোর দাম বাড়ানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এ কারসাজি করা হয়েছে কোম্পানির মূল্যসংবেদনশীল তথ্য আগেভাগে জেনে।

আবার অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ছাড়াই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। স্বল্প মূলধনির কোম্পানির ক্ষেত্রে এসব কারসাজির ঘটনা বেশি ঘটেছে। কারসাজি বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার জোরালো কোনো অবস্থান না থাকায় কারসাজিকারীরা আরও বেশি সাহস পেয়েছেন। কারণ, তাঁরা জানেন, কারসাজি করলেও তাঁদের কোনো শাস্তি হবে না। আবার গুটিকয়েক ক্ষেত্রে শাস্তি হলেও তা লাভের তুলনায় অতি নগণ্য।

প্রথম আলো: এই যে বাজারে হরহামেশা কারসাজির মাধ্যমে নানা কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়, তাতে কি মনে হয় বাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো ভূমিকা আছে?

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: কারসাজি বন্ধে আমাদের বাজারে আমি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তেমন কোনো ভূমিকা দেখি না। অহরহ বাজারে কারসাজি হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কোনো শাস্তির বিধান করতে দেখছি না। আমরা দেখি, দাম বাড়তে থাকলে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ দেওয়া হয় দাম বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে।

কিন্তু কোনো কোম্পানির কাছে মূল্যসংবেদনশীল তথ্য থাকলেও সে তো চিঠির জবাবে তা কখনোই বলবে না। কারণ, সে যদি স্বীকার করে তার কাছে তথ্য আছে, তবে তা প্রকাশ না করার দায়ে তো সে অভিযুক্ত হবে। তাই এ ক্ষেত্রে দরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থার জোরালো ভূমিকা। কিন্তু সেটিরই বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

প্রথম আলো: অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখি, বাজার পড়ে যাবে—এ ভয়ে তথ্য প্রমাণ থাকার পরও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কারসাজিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি দেয় না। নামমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেয়। এ ধরনের অবস্থান বাজারের জন্য কি আদৌ মঙ্গলজনক?

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরনের অবস্থান বাজারের জন্য তো কখনোই মঙ্গল বয়ে আনে না, বরং ভুল বার্তা যায় বাজারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি মনে করে, যাদের নিয়ন্ত্রণ করছি, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। এতে তো নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে কারসাজিকারীরা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো ব্যবস্থা বা অ্যাকশন নিতে গেলে কারসাজিকারীরা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়।

বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, এ ভয়ে যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাউকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে কুণ্ঠাবোধ করে, তাহলে কারসাজিকারীরা মজা নেবে। সেটিই হচ্ছে আমাদের বাজারে। এ কারণে নানা সময় আমরা দেখি দাবি আদায়ের জন্য এ বাজারকে নানা গোষ্ঠী নানাভাবে ব্যবহার করছে। তাই মাঝেমধ্যে মনে হয়, পতনের পর সত্যিকার অর্থে বাজারকে তোলার জন্য দাবি করা হয়, নাকি দাবি আদায়ের জন্য বাজারকে ফেলা হয়। আমার সন্দেহ হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাজার ফেলে দিয়ে অনেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।

প্রথম আলো: বাজারের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে কি মনে করেন এ বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা রয়েছে?

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: দেখুন, আমাদের বাজারের প্রধান সমস্যা আস্থার ঘাটতি। এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের সবাই কমবেশি সঞ্চয়কারী। এসব সঞ্চয়কারীর আগ্রহ এ বাজারের প্রতি নেই। ব্যাংকের নানা অনিয়ম, দুর্নীতির পরও মানুষ কিন্তু ব্যাংকে টাকা রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। শেয়ারবাজারের প্রতি খুব বেশি আগ্রহী হন না বা আস্থাশীল নন। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত সরাসরি সঞ্চয়কারীদের টাকা বাজারে আসবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত নানা কায়দাকানুন করে ব্যাংকের মাধ্যমে কিছু অর্থ বাজারে এনে হয়তো সাময়িকভাবে বাজারকে কিছুটা এগিয়ে নেওয়া যাবে।

তবে এভাবে খুব বেশি দূর যাওয়া যাবে না। আমরা দেখছি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি দেশজুড়ে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে এ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান বাজারে যেসব শিক্ষিত, জানা বোঝা বিনিয়োগকারী আছেন, তাঁদেরই কোনো আস্থা নেই। সেখানে বাজারে আস্থা তৈরির আগে এ ধরনের বিনিয়োগ শিক্ষা কোনো কাজে আসবে বলে আমার মনে হয় না। সুত্র: প্রথম আলো

ন্যূনতম ২ শতাংশ ধারণের তথ্য চেয়ে ডিএসই চিঠি

shareadmin  সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯

শেয়ারবার্তা ২৪ডটকম, ঢাকা: পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ সদস্যদের শূন্যপদ পূরণ হয়েছে কি না...

পুঁজিবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের

shareadmin  সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পর্যবেক্ষণের পর বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করেছে বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী। তারা...

আরএসসি পোশাক কারখানা সংস্কারে গঠন হচ্ছে

shareadmin  সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: তৈরি পোশাক কারখানা সংস্কারে গঠিত হচ্ছে সাস্টেনিবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি)। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে এ কাউন্সিল গঠনের...

পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা

shareadmin  আগস্ট ৩১, ২০১৯

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজার চারদিন পতন আর একদিন উত্থানের মধ্য দিয়ে আগস্টের শেষ সপ্তাহ পার করেছে। আলোচিত সপ্তাহে লেনদেন,...

ডিএসইতে পিই রেশিও কমেছে ২.২৮ শতাংশ

shareadmin  আগস্ট ৩১, ২০১৯

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন কমেছে। সাথে সার্বিক মূল্য আয় অনুপাতও (পিই রেশিও) কমেছে।...

আশুগঞ্জ পাওয়ার ৬০০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পেল

shareadmin  আগস্ট ২৭, ২০১৯

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের ৬০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ কোটি...

রিংসান সাইন টেক্সটাইলের আইপিও বাতিলের দাবিতে বিনিয়োগকারীদের মানবন্ধন

shareadmin  আগস্ট ২৬, ২০১৯

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)’র মুখপাত্র সাইদুর রহমান কর্তৃক সাংবাদিকদের সাথে অপমানজনক আচরন এবং রিংসাইন...

`বিএসইসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ’

shareadmin  আগস্ট ২৪, ২০১৯

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড.এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি স্বার্থন্বেষী মহলের...

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এজিএমে বহিরাগত দালালের দৌরাত্ম!

shareadmin  আগস্ট ২৪, ২০১৯

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলো ২০১৮ সালের আর্থিক হিসাব প্রকাশ শেষে বার্ষিক সাধারন সভা (এজিএম) করেছে। তবে কিছু...