শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স ও মুনাফার সূচকে দুর্বলতা থাকার পরও পুঁজিবাজার থেকে ফের বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি জিপিএইচ ইস্পাত। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে নয়শ কোটি টাকা তুলতে চায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

কোম্পানির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যমান শেয়ারের বিপরীতে দুটি করে নতুন রাইট শেয়ার ইস্যু করা হবে, যার প্রতিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দশ টাকা করে। এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে কোম্পানিটি মোট প্রায় ৯৬৮ কোটি টাকার কাছাকাছি নতুন মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবে।

তবে এই বিশাল অঙ্কের মূলধন সংগ্রহের প্রস্তাব সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা দাঁড়িয়েছে মাত্র সাত পয়সায়। এই দুর্বল আয়ের প্রেক্ষাপটেই সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মাত্র দুই শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কোম্পানিটি। চলতি বছরের জুন শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় বায়ান্ন টাকা।

এই বাস্তবতায় এত বড় অঙ্কের নতুন মূলধন কেন প্রয়োজন এবং সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হবে—তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটিই কোম্পানিটির প্রথম মূলধন সংগ্রহের চেষ্টা নয়। এর আগে গত বছরের মে মাসে জিপিএইচ ইস্পাতের একটি রাইট শেয়ার প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। তখন কোম্পানিটি এক-তিন অনুপাতে রাইট শেয়ার ইস্যু করে প্রায় ২৪২ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছিল, যা দাখিলকৃত নথিপত্র সন্তোষজনক না হওয়ায় নাকচ হয়ে যায়।

এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই একই বছরের জুন মাসে কোম্পানিটির আরেকটি প্রস্তাব—ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে পাঁচশ কোটি টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

অর্থাৎ গত এক বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বড় অঙ্কের মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ নিলো কোম্পানিটি। আগের দুটি প্রস্তাব নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পেলেও এবার আরও বড় পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্বল মুনাফা ও লভ্যাংশ প্রদানের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বারবার বড় অঙ্কের মূলধন সংগ্রহের চেষ্টা কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি করতে পারে। এ ধরনের প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা ও তহবিলের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতে আরও সতর্ক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা, যাতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।