Deshprothikhon-adv

বিএসইসির নজরদারীতে চার কোম্পানি, অনিয়ম হলে ব্যবস্থা!

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সেচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নজরদারিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চার কোম্পানি । সম্প্রতি দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং অভিযোগ এমন সংবাদ প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসছে বিএসইসি। এবার চার কোম্পানির শেয়ারকে ঘিরে সক্রিয় রয়েছে কারসাজিকারীরা। এর জের ধরে এ কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কোন কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। আর মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে এ কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এগুলো হলো: হলো-প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স, ইনটেক লিমিটেড, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স ও ফাইন ফুডস লিমিটেড। সাম্প্রতিক সময়ে এসব কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে শেয়ার দরে অস্বাভাবিক উল্লম্ফনের পেছনে কারসাজি বা বিধি বহির্ভুতভাবে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ হয়েছে কিনা জানতে চেয়ে কোম্পানিগুলোকে গত সপ্তাহে শোকজ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কিন্তু কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে দর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষরা।

কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বিএসইসি’র সার্ভিলেন্স বিভাগের এক উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেহেতু কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ হয়নি তাই এখানে অন্য কোন পক্ষ থেকে কারসাজি হয়েছে কিনা আমরা খতিয়ে দেখবো। কারসাজির ঘটনা ঘটে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে চার কোম্পানির শেয়ারদরে উল্লম্ফন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে ২২ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত। সূত্রমতে, আলোচ্য সপ্তাহে প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছ সর্বো্চ্চ। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৬.৫০ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৪৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকার। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহের প্রথমদিন কোম্পানিটির উদ্বোধনী মূল্য ছিল ৯৫ টাকা এবং শেষদিন মূল্য ছিল ১২৯.৪০ টাকা। এক বছরের মধ্যে এটি কোম্পানির সর্বোচ্চ শেয়ারদর।

দর মাতানোর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইনটেক লিমিটেডের। সপ্তাহেজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩০.৯৮ শতাংশ। শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮২ কোটি ৮৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকার। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহের প্রথমদিন কোম্পানিটির উদ্বোধনী মূল্য ছিল ৫১ টাকা এবং শেষদিন মূল্য ছিল ৬৬.৮০ টাকা। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৩.২০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬.৮০ টাকায় উঠেছে। এতে এক মাসে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ১১৪.১০ শতাংশ।

দর উল্লম্ফনের তৃতীয় অবস্থানে ছিল ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স শেয়ার। সপ্তাহেজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৪.২৫ শতাংশ। শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ২১ লাখ ১১ হাজার টাকার। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ২ লাখ ২৪ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার।

সপ্তাহের প্রথমদিন কোম্পানিটির উদ্বোধনী মূল্য ছিল ২১৭ টাকা এবং শেষদিন মূল্য ছিল ২৭৬.২০ টাকা। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৪২.৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৭৬.২০ টাকায় উঠেছে। এতে এক মাসে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ৯৪ শতাংশ। এটি কোম্পানিটির বছরের সর্বোচ্চ শেয়ারদর।

দর বৃদ্ধির চতুর্থ অবস্থানে ছিল ফাইন ফুডসের শেয়ার। সপ্তাহেজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২২.৪১ শতাংশ। শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার টাকার। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ২ লাখ ৮ হাজার টাকার শেয়ার।

সপ্তাহের প্রথমদিন কোম্পানিটির উদ্বোধনী মূল্য ছিল ২৯ টাকা এবং শেষদিন মূল্য ছিল ৩৫.৫০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বোচ্চ কেনাবেচা হয় ৩৮.৩০ টাকায় এবং ক্লোজিং দর ছিল ৩৫.৫০ টাকা। এটি কোম্পানিটির বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড দর।

Comments are closed.