Deshprothikhon-adv

গুজব সব সময় গুজব, আতঙ্কের কিছু নেই: সাইফুল ইসলাম

0

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে নানা গুজবে টালমাতাল পরিস্থিতি। একের পর এক গুজবে ভর করছে পুঁজিবাজার। ফলে শনির দশা কাটছে পুঁজিবাজারের। একটি চক্র পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করতে একের সময় এক গুজব ছড়াচ্ছে। এরা গুজব ছড়িয়ে বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে মাঠে নামছে। পেছনে কাজ করছে কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ। বর্তমান বাজারে নতুন গুজব কর্মাস ব্যাংক সিকিউরিটিজের এভিপি সাইফুল ইসলামের পদত্যাগ।

সাইফুল ইসলামকে টার্গেট করে তারা নতুন মিশনে নেমেছেন। কারন পুঁজিবাজার যখন অস্থিতিশীল ছিল তারা কোন মতো বাজার স্থিতিশীল করতে পারেনি । ঐ অস্থিতিশীল পুঁজিবাজারকে কে স্থিতিশীল বাজারের রুপরেখার কাজ করেছিল কর্মাস ব্যাংক সিকিউরিটিজ। ফলে ঐ চক্রটির শত্রু হয়ে গেছে সাইফুল। এ কারনে সাইফুল ইসলামে নিয়ে একেক সময় একেক গুজব ছড়াচ্ছে।অস্থির পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীলতার স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড। গত কিছুদিন ধরেই লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছিল কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের তালিকায়ও ছিল ব্রোকারেজ হাউসটি। এই হাউসের বিনিয়োগকারীরাও অন্যদের তুলনায় বেশ ভাল মুনাফা করেছে বলে তারা জানান হাউজটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসইর তালিকাভুক্ত আরও কিছু প্রভাবশালী হাউস বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের ক্ষোভের শিকার হয় হাউসটি। এছাড়া এক শ্রেণীর কুচক্রি বিনিয়োগকারীও হাউসটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আসছেন বিভিন্ন মহলে। মূলত বাজারে এই নেতিবাচক প্রচার চালানোর কারণেই বেশ কিছু কোম্পানির ক্রেতা সঙ্কট দেখা দেয়। যদিও কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ তার পদত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

শুধু তাই নয় সাইফুল ইসলাম নিজেও পদত্যাগের বিষয়টি উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, অন্যদিনের মতো বুধ ও বৃহস্পতিবার তিনি নিয়মিত বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। নিজেদের মধ্যে কোন ভুল বোঝাবুঝি নেই।

অভিযোগ উঠছে, পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীলতার পেছনে বিএনপি জামায়াত পন্থী কিছু ব্রোকারেজ হাউজের মালিক ও সিন্ডিকেট চক্র ও মার্চেন্ট ব্যাংক এ অস্থিরতার গুজব ছড়াচ্ছে। এরা পরিকল্পিত ভাবে পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। অন্যদিকে নীতিনির্ধারকদের চাপে ফেলতে পুঁজিবাজারে পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে স্বার্থান্বেষী মহল। সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কঠোর অবস্থানের পর ও এ মহলটি পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষ স্থানীয় একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, গত কিছুদিন ধরে টানা পতন থাকলেও কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীরা অন্যদের তুলনায় ভাল করেছেন। এতে বাজারের অন্যপক্ষ খুব ভাল চোখে দেখেনি।

এছাড়া যখন সরকার বাজারকে একটি স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, সেখানে এক শ্রেণীর বড় বিনিয়োগকারী বাজারকে অস্থিতিশীল করতে কখনও মুদ্রানীতির নামে আবার কখনও কোন ব্রোকারেজ হাউস সম্পর্কে নেতিবাচক গুজব ছড়িয়ে ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছেন।

গুজবের প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণকে বলেন, এই ধরনের গুজবের কোন ভিত্তি নেই, এটা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন। সরকারকে চাপে ফেলার জন্য এবং পুঁজিবাজারের পরিবেশ নস্ট করার জন্য একশ্রেনীর মানুষ এ গুজব ছড়াচ্ছে। আমাকে কেন সাসপেন্ড করা হবে? আমার বিরুদ্বে তো কোন অভিযোগ নেই।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মন্দা পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীলতার স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। এটা যদি আমার অপরাধ হয় তা হলে আর কি বলব। বর্তমান সরকার পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ও সাধ্যমত চেষ্টা করছি। বাজারে একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হতে না হতে একটি চক্র ঘাপটি মেরে থাকা নানা গুজব ছড়াচ্ছে।

বর্তমান পুঁজিবাজারে পতন হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তবে নানা গুজবের কারণেই গত কয়েক দিনে পুঁজিবাজার টালমাতাল পরিস্থিতি। এর প্রভাবে প্রায় নিয়মিতভাবে কমছে অধিকাংশ শেয়ারের দর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারকে যে কোন মুল্যে স্থিতিশীল রাখবে। ২০১০ সালের অনাকাক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে পুঁজিবাজারের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রেখে আসছে। অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও সব রকম নেতিবাচক প্রবণতা বন্ধ করে দেশের পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিশেষ কোন মহল যাতে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটে নিতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষনিকভাবে এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখছে।

এ বিষয় কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মোতালেব চৌধুরী দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণকে বলেন, সাইফুল ইসলাম পদত্যাগ করবে কেন ? পদত্যাগের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। তিনি আমাদের মাঝে আছেন এবং ভবিষ্যতে থাকবেন।

Comments are closed.